ঢাকা    শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩
বুড়িগঙ্গা

বিশ্বসেরা ৪০ দলে চুয়েটের চার শিক্ষার্থী



বিশ্বসেরা ৪০ দলে চুয়েটের চার শিক্ষার্থী
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) চার শিক্ষার্থী।

মাত্র চার মাসের প্রস্তুতিতে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) চার শিক্ষার্থী। ‘মর্টার’ তৈরির আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রে যাবেন। আমেরিকান কংক্রিট ইনস্টিটিউট (এসিআই) আয়োজিত ‘এসিআই মর্টার ওয়ার্কেবিলিটি কমপিটিশন ২০২৬’-এর মূল পর্বে অংশ নেবেন তাঁরা।

আগামী ১১ থেকে ১৪ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টার একটি হোটেলে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীদের দল এ প্রতিযোগিতার বাছাইপর্বে অংশ নেয়। এর মধ্যে সেরা ৪০ দলে জায়গা করে নিয়েছে চুয়েটের দলটি। দলের চার সদস্য হলেন পুরকৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী খন্দকার ফাহাদ আলম, সুমাইয়া বিনতে মান্নান, তানজিম মুশাররাত তুশিন ও স্বরূপ চন্দ্র মোদক। তাঁদের সহযোগী হিসেবে রয়েছেন একই বিভাগের চতুর্থ বর্ষের সানিউল হক, রূপম পোদ্দার ও আমীর হামজা মাহমুদ এবং তৃতীয় বর্ষের মো. সাইজউদ্দিন ফরহাদ। সহযোগীরা যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন না। তাঁরা দেশে থেকেই চার শিক্ষার্থীকে সহায়তা করবেন। দলের উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন চুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও এসিআই স্টুডেন্ট চ্যাপ্টার চুয়েট শাখার অনুষদ উপদেষ্টা জি এম সাদিকুল ইসলাম।

নির্বাচিত ৪০টি দলের মধ্যে মাত্র ছয়টি দল এসিআই কংক্রিট কনভেনশনে স্লাইড প্রেজেন্টেশনের সুযোগ পাবে। এতে নিজ নিজ এসিআই স্টুডেন্ট চ্যাপ্টারের কার্যক্রম ও অর্জন তুলে ধরতে হবে। টিম চুয়েটসি ওই ছয়টি দলের একটি। প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে তারা এসিআই স্টুডেন্ট চ্যাপ্টার চুয়েট এবং বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রতিনিধিত্ব করবে। নির্মাণকাজে সিমেন্ট, বালু ও পানি মিশিয়ে তৈরি ঘন মিশ্রণকে মর্টার বলে। এটি ইট, পাথর বা কংক্রিটের ব্লক একসঙ্গে শক্তভাবে আটকে রাখতে সাহায্য করে।

প্রতিযোগিতায় সিমেন্ট, বালু, পানি, অ্যাডমিক্সচার ও সম্পূরক সিমেন্ট উপাদান নির্দিষ্ট অনুপাতে মিশিয়ে মর্টার তৈরি করা হয়। এরপর এর বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে প্রবাহক্ষমতা ও স্থিতিশীলতাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। মোট নম্বরের ৫০ শতাংশ প্রবাহক্ষমতা এবং ২০ শতাংশ স্থিতিশীলতার জন্য নির্ধারিত।

দলের সদস্যরা জানান, প্রবাহক্ষমতা ও স্থিতিশীলতার মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারে বিভিন্ন অনুপাতে উপকরণ মিশিয়ে একাধিকবার পরীক্ষা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি পরিবেশের ওপর প্রভাব ও খরচ কমানোর বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

দলের সদস্য সুমাইয়া বিনতে মান্নান বলেন, ‘দ্বিধা ও অনিশ্চয়তা নিয়ে আমরা এই যাত্রা শুরু করেছিলাম। শুরুতে আমরা একেবারেই দিশেহারা ছিলাম। তবে সময়, দিকনির্দেশনা ও নিরন্তর প্রচেষ্টায় ধীরে ধীরে নিজেদের পথ খুঁজে পেয়েছি।’

সুমাইয়া আরও বলেন, ‘প্রতিযোগিতায় আমরা কোন স্থান অর্জন করব, তা জানি না। তবে চুয়েট ও বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে এই পর্যায়ে অংশ নিতে পারাটাই আমাদের জন্য বড় অর্জন। পুরো যাত্রায় যাঁরা আমাদের সমর্থন ও পথ দেখিয়েছেন, তাঁদের প্রতি আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। আমরা আশা করি, আমাদের কঠোর পরিশ্রমের ফল মিলবে। এই অভিজ্ঞতা থেকেও ভালো কিছু অর্জন করতে পারব।’

দলের উপদেষ্টা জি এম সাদিকুল ইসলাম বলেন, ২০১৮ সালে এসিআই স্টুডেন্ট চ্যাপ্টার প্রতিষ্ঠার পর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ছয়টি পুরস্কার পেয়েছে চুয়েট। তবে সেগুলো ছিল অনলাইনভিত্তিক প্রতিযোগিতা। এবার সরাসরি প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাওয়ায় তাঁরা আনন্দিত। শিক্ষার্থীরা এবারও ভালো সাফল্য অর্জন করবেন বলে আশা করছেন তিনি।

আমেরিকান কংক্রিট ইনস্টিটিউট (এসিআই) কংক্রিট নির্মাণ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে বৈশ্বিক মানদণ্ড, কোড ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান তৈরি ও প্রচার করে। এটি একটি আন্তর্জাতিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। সংস্থাটি বিশ্বের ১২০টির বেশি দেশে ৩৫ হাজারের বেশি সদস্য নিয়ে কাজ করছে।

বিষয় : ছাপা সংস্করণ শিক্ষা শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

বুড়িগঙ্গা

শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬


বিশ্বসেরা ৪০ দলে চুয়েটের চার শিক্ষার্থী

প্রকাশের তারিখ : ০২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

মাত্র চার মাসের প্রস্তুতিতে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) চার শিক্ষার্থী। ‘মর্টার’ তৈরির আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রে যাবেন। আমেরিকান কংক্রিট ইনস্টিটিউট (এসিআই) আয়োজিত ‘এসিআই মর্টার ওয়ার্কেবিলিটি কমপিটিশন ২০২৬’-এর মূল পর্বে অংশ নেবেন তাঁরা।

আগামী ১১ থেকে ১৪ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টার একটি হোটেলে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীদের দল এ প্রতিযোগিতার বাছাইপর্বে অংশ নেয়। এর মধ্যে সেরা ৪০ দলে জায়গা করে নিয়েছে চুয়েটের দলটি। দলের চার সদস্য হলেন পুরকৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী খন্দকার ফাহাদ আলম, সুমাইয়া বিনতে মান্নান, তানজিম মুশাররাত তুশিন ও স্বরূপ চন্দ্র মোদক। তাঁদের সহযোগী হিসেবে রয়েছেন একই বিভাগের চতুর্থ বর্ষের সানিউল হক, রূপম পোদ্দার ও আমীর হামজা মাহমুদ এবং তৃতীয় বর্ষের মো. সাইজউদ্দিন ফরহাদ। সহযোগীরা যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন না। তাঁরা দেশে থেকেই চার শিক্ষার্থীকে সহায়তা করবেন। দলের উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন চুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও এসিআই স্টুডেন্ট চ্যাপ্টার চুয়েট শাখার অনুষদ উপদেষ্টা জি এম সাদিকুল ইসলাম।

নির্বাচিত ৪০টি দলের মধ্যে মাত্র ছয়টি দল এসিআই কংক্রিট কনভেনশনে স্লাইড প্রেজেন্টেশনের সুযোগ পাবে। এতে নিজ নিজ এসিআই স্টুডেন্ট চ্যাপ্টারের কার্যক্রম ও অর্জন তুলে ধরতে হবে। টিম চুয়েটসি ওই ছয়টি দলের একটি। প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে তারা এসিআই স্টুডেন্ট চ্যাপ্টার চুয়েট এবং বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রতিনিধিত্ব করবে। নির্মাণকাজে সিমেন্ট, বালু ও পানি মিশিয়ে তৈরি ঘন মিশ্রণকে মর্টার বলে। এটি ইট, পাথর বা কংক্রিটের ব্লক একসঙ্গে শক্তভাবে আটকে রাখতে সাহায্য করে।

প্রতিযোগিতায় সিমেন্ট, বালু, পানি, অ্যাডমিক্সচার ও সম্পূরক সিমেন্ট উপাদান নির্দিষ্ট অনুপাতে মিশিয়ে মর্টার তৈরি করা হয়। এরপর এর বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে প্রবাহক্ষমতা ও স্থিতিশীলতাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। মোট নম্বরের ৫০ শতাংশ প্রবাহক্ষমতা এবং ২০ শতাংশ স্থিতিশীলতার জন্য নির্ধারিত।

দলের সদস্যরা জানান, প্রবাহক্ষমতা ও স্থিতিশীলতার মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারে বিভিন্ন অনুপাতে উপকরণ মিশিয়ে একাধিকবার পরীক্ষা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি পরিবেশের ওপর প্রভাব ও খরচ কমানোর বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

দলের সদস্য সুমাইয়া বিনতে মান্নান বলেন, ‘দ্বিধা ও অনিশ্চয়তা নিয়ে আমরা এই যাত্রা শুরু করেছিলাম। শুরুতে আমরা একেবারেই দিশেহারা ছিলাম। তবে সময়, দিকনির্দেশনা ও নিরন্তর প্রচেষ্টায় ধীরে ধীরে নিজেদের পথ খুঁজে পেয়েছি।’

সুমাইয়া আরও বলেন, ‘প্রতিযোগিতায় আমরা কোন স্থান অর্জন করব, তা জানি না। তবে চুয়েট ও বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে এই পর্যায়ে অংশ নিতে পারাটাই আমাদের জন্য বড় অর্জন। পুরো যাত্রায় যাঁরা আমাদের সমর্থন ও পথ দেখিয়েছেন, তাঁদের প্রতি আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। আমরা আশা করি, আমাদের কঠোর পরিশ্রমের ফল মিলবে। এই অভিজ্ঞতা থেকেও ভালো কিছু অর্জন করতে পারব।’

দলের উপদেষ্টা জি এম সাদিকুল ইসলাম বলেন, ২০১৮ সালে এসিআই স্টুডেন্ট চ্যাপ্টার প্রতিষ্ঠার পর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ছয়টি পুরস্কার পেয়েছে চুয়েট। তবে সেগুলো ছিল অনলাইনভিত্তিক প্রতিযোগিতা। এবার সরাসরি প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাওয়ায় তাঁরা আনন্দিত। শিক্ষার্থীরা এবারও ভালো সাফল্য অর্জন করবেন বলে আশা করছেন তিনি।

আমেরিকান কংক্রিট ইনস্টিটিউট (এসিআই) কংক্রিট নির্মাণ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে বৈশ্বিক মানদণ্ড, কোড ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান তৈরি ও প্রচার করে। এটি একটি আন্তর্জাতিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। সংস্থাটি বিশ্বের ১২০টির বেশি দেশে ৩৫ হাজারের বেশি সদস্য নিয়ে কাজ করছে।


বুড়িগঙ্গা

Buriganga Television is committed to delivering research-based, 
fact-driven, and impartial journalism on the geopolitical economy of the 
Indo-Pacific and the future of humanity to audiences worldwide.

Whatsapp: +8801321780900
Email: burigongatv@gmail.com
Newsroom: newsroom@burigongatv.com

স্বত্ব © বুড়িগঙ্গা মিডিয়া সেন্টার
বিশ্বসেরা ৪০ দলে চুয়েটের চার শিক্ষার্থী
0:00 0:00
1.0x