ঢাকা    সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩
বুড়িগঙ্গা

ডায়াবেটিস রোগীর ইনসুলিন মিলবে ক্যাপসুলে



ডায়াবেটিস রোগীর ইনসুলিন মিলবে ক্যাপসুলে
ফাইল ছবি

ডায়াবেটিস রোগীর ইনসুলিন গ্রহণে ইনজেকশনের বিকল্প হিসাবে মুখে গ্রহণযোগ্য ন্যানোক্যাপসুল আবিষ্কার করেছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) একদল গবেষক। এ ক্যাপসুলের মাধ্যমে কম মূল্যে ব্যথামুক্ত ও নিয়ন্ত্রিতভাবে শরীরে ইনসুলিন সরবরাহ হবে। 

গবেষণাটি ল্যাবরেটরি পর্যায়ে সফলতা পেয়েছে। 

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে পরিচিত দীর্ঘমেয়াদি রোগগুলোর মধ্যে ডায়াবেটিস অন্যতম। শরীরে পর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি না হলে কিংবা ইনসুলিন সঠিকভাবে কাজ করতে না পারলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়। দীর্ঘস্থায়ীভাবে রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকাকেই ডায়াবেটিস বলা হয়। এ রোগে শরীরে ইনসুলিনের ঘাটতি হয় অথবা ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমে যায়। 

ইনসুলিন মানবদেহের অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ হরমোন, যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে প্রধান ভূমিকা পালন করে। মানুষ খাবার খাওয়ার পর রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে গেলে অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসরণ বাড়ে। এই ইনসুলিন রক্তে থাকা শর্করাকে শরীরের বিভিন্ন কোষে প্রবেশ করতে সাহায্য করে। পরে কোষগুলো ওই শর্করা ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় শক্তি উৎপন্ন করে।   আরও পড়ুনআরও পড়ুনমাথায় চোট পেয়ে হাসপাতালে এমি, কী ঘটেছিল?

প্রধান গবেষক যবিপ্রবির ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ড. কিশোর মজুমদার বলেন, পৃথিবীতে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। প্রায় ৬০ কোটির বেশি লোক এখন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। যে কোনো ধরনের ডায়াবেটিসের জন্য ইনসুলিন সবচেয়ে কার্যকরী, ভালো ও নিরাপদ মেডিসিন। তবে শরীরে ব্যথা পাওয়ার কারণে অনেক রোগী ইনসুলিন ইনজেকশনের মাধ্যমে নিতে অনীহা প্রকাশ করে। এমনকি এর কারণে অনেক রোগী অজ্ঞান হয়ে যায়। এতে পরে হঠাৎ করে কখনো কখনো রোগীর শরীরে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়ায় রোগী মারাও যেতে পারে। এটাকে বলা হয় হাইপোগ্লাইসেমিক শক। এসব সমস্যার কথা ভেবে আমরা রোগীর জন্য ব্যথামুক্ত সমাধান বের করার চেষ্টা করেছি। 

তিনি বলেন, আমরা যে ক্যাপসুলটি তৈরি করেছি সেটিকে আমরা কৃত্রিম অগ্ন্যাশয় বলছি। কারণ এটি শরীরের অগ্ন্যাশয়ের মতো শর্করার মাত্রা অনুযায়ী ইনসুলিন নিঃসরণের মাধ্যমে শরীরে শর্করা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করবে। ক্যাপসুলে ব্যবহৃত সব উপাদান বিষমুক্ত এবং বায়োডিগ্রেডেবল। এটি সঠিকভাবে খেলে রোগীর স্বাস্থ্যঝুঁকি কমে যাবে এবং ডায়াবেটিস থেকে দীর্ঘদিন নিরাপদে থাকবে। 

এই গবেষক আরও বলেন, আমরা ইঁদুরের ওপর এটি প্রয়োগ করেছি এবং তা সুন্দরভাবে কাজ করেছে। এখন যদি সরকার কিংবা কোনো প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পৃষ্ঠপোষকতা পাই তাহলে আমরা এটি মানুষের ওপর প্রয়োগ করব। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী দুই বছরের মধ্যে আমরা এটি বাজারে আনতে পারব।

বিষয় : ডায়াবেটিস যশোর

বুড়িগঙ্গা

সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬


ডায়াবেটিস রোগীর ইনসুলিন মিলবে ক্যাপসুলে

প্রকাশের তারিখ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ডায়াবেটিস রোগীর ইনসুলিন গ্রহণে ইনজেকশনের বিকল্প হিসাবে মুখে গ্রহণযোগ্য ন্যানোক্যাপসুল আবিষ্কার করেছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) একদল গবেষক। এ ক্যাপসুলের মাধ্যমে কম মূল্যে ব্যথামুক্ত ও নিয়ন্ত্রিতভাবে শরীরে ইনসুলিন সরবরাহ হবে। 

গবেষণাটি ল্যাবরেটরি পর্যায়ে সফলতা পেয়েছে। 

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে পরিচিত দীর্ঘমেয়াদি রোগগুলোর মধ্যে ডায়াবেটিস অন্যতম। শরীরে পর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি না হলে কিংবা ইনসুলিন সঠিকভাবে কাজ করতে না পারলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়। দীর্ঘস্থায়ীভাবে রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকাকেই ডায়াবেটিস বলা হয়। এ রোগে শরীরে ইনসুলিনের ঘাটতি হয় অথবা ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমে যায়। 

ইনসুলিন মানবদেহের অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ হরমোন, যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে প্রধান ভূমিকা পালন করে। মানুষ খাবার খাওয়ার পর রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে গেলে অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসরণ বাড়ে। এই ইনসুলিন রক্তে থাকা শর্করাকে শরীরের বিভিন্ন কোষে প্রবেশ করতে সাহায্য করে। পরে কোষগুলো ওই শর্করা ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় শক্তি উৎপন্ন করে।   আরও পড়ুনআরও পড়ুনমাথায় চোট পেয়ে হাসপাতালে এমি, কী ঘটেছিল?

প্রধান গবেষক যবিপ্রবির ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ড. কিশোর মজুমদার বলেন, পৃথিবীতে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। প্রায় ৬০ কোটির বেশি লোক এখন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। যে কোনো ধরনের ডায়াবেটিসের জন্য ইনসুলিন সবচেয়ে কার্যকরী, ভালো ও নিরাপদ মেডিসিন। তবে শরীরে ব্যথা পাওয়ার কারণে অনেক রোগী ইনসুলিন ইনজেকশনের মাধ্যমে নিতে অনীহা প্রকাশ করে। এমনকি এর কারণে অনেক রোগী অজ্ঞান হয়ে যায়। এতে পরে হঠাৎ করে কখনো কখনো রোগীর শরীরে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়ায় রোগী মারাও যেতে পারে। এটাকে বলা হয় হাইপোগ্লাইসেমিক শক। এসব সমস্যার কথা ভেবে আমরা রোগীর জন্য ব্যথামুক্ত সমাধান বের করার চেষ্টা করেছি। 

তিনি বলেন, আমরা যে ক্যাপসুলটি তৈরি করেছি সেটিকে আমরা কৃত্রিম অগ্ন্যাশয় বলছি। কারণ এটি শরীরের অগ্ন্যাশয়ের মতো শর্করার মাত্রা অনুযায়ী ইনসুলিন নিঃসরণের মাধ্যমে শরীরে শর্করা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করবে। ক্যাপসুলে ব্যবহৃত সব উপাদান বিষমুক্ত এবং বায়োডিগ্রেডেবল। এটি সঠিকভাবে খেলে রোগীর স্বাস্থ্যঝুঁকি কমে যাবে এবং ডায়াবেটিস থেকে দীর্ঘদিন নিরাপদে থাকবে। 

এই গবেষক আরও বলেন, আমরা ইঁদুরের ওপর এটি প্রয়োগ করেছি এবং তা সুন্দরভাবে কাজ করেছে। এখন যদি সরকার কিংবা কোনো প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পৃষ্ঠপোষকতা পাই তাহলে আমরা এটি মানুষের ওপর প্রয়োগ করব। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী দুই বছরের মধ্যে আমরা এটি বাজারে আনতে পারব।


বুড়িগঙ্গা

Buriganga Television is committed to delivering research-based, 
fact-driven, and impartial journalism on the geopolitical economy of the 
Indo-Pacific and the future of humanity to audiences worldwide.

Whatsapp: +8801321780900
Email: burigongatv@gmail.com
Newsroom: newsroom@burigongatv.com

স্বত্ব © বুড়িগঙ্গা মিডিয়া সেন্টার
ডায়াবেটিস রোগীর ইনসুলিন মিলবে ক্যাপসুলে
0:00 0:00
1.0x