ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে আমিন দিয়ে জমি পরিমাপ করে নির্ধারণ করা সীমানার বাঁশের খুঁটি জোরপূর্বক উপড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ সময় বাধা দেওয়ায় এক ব্যক্তিকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) উপজেলার সোহাগী ইউনিয়নের চট্টি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, চট্টি মৌজায় প্রদীপ কুমার সরকারের ক্রয়কৃত বসতবাড়ি, পুকুর ও বাগানবাড়ির একাংশের সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার সকালে উভয় পক্ষের সম্মতিতে জমি পরিমাপের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ সময় প্রতিপক্ষ প্রবীর কুমার সরকার (প্রবল), তাঁর ছেলে চয়ন সরকারসহ তাঁদের লোকজন উপস্থিত ছিলেন। উভয় পক্ষের নিয়োগ করা আমিনের মাধ্যমে জমি পরিমাপ শেষে নির্দিষ্ট স্থানে বাঁশের খুঁটি পুঁতে সীমানা চিহ্নিত করা হয়। এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ গ্রামের অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।
পরিবারটির অভিযোগ, জমি পরিমাপ ও সীমানা নির্ধারণের কাজ শেষ হওয়ার পর প্রদীপ কুমার সরকারের দুই ভাই ব্যক্তিগত কাজে সেখান থেকে চলে যান। এর কিছুক্ষণ পর প্রতিপক্ষ প্রবীর কুমার সরকার ও তাঁর স্ত্রী মিলে সীমানায় পুঁতে রাখা বাঁশের খুঁটিগুলো জোরপূর্বক উপড়ে ফেলেন। এ সময় প্রদীপ কুমার সরকারের ছোট ভাই লিটন কুমার সরকার বাধা দিলেও তাঁরা তা উপেক্ষা করে খুঁটিগুলো তুলে ফেলেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, এর আগে প্রবীর কুমার সরকার বিরোধপূর্ণ বসতবাড়ি ও বাগানবাড়ির অংশের বিনিময়ে তাঁদের অন্য স্থানের ভালো আবাদি জমি দেওয়ার সমঝোতার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি সেই প্রস্তাব থেকে সরে আসেন। তাঁদের অভিযোগ, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এর আগেও প্রতিপক্ষ একটি মামলা করেছিলেন, যা পরবর্তীতে আদালত খারিজ করে দেন।
পরিবারটির আরও দাবি, জমি পরিমাপ ও সীমানা নির্ধারণের পাশাপাশি খুঁটি উপড়ে ফেলার ঘটনার স্থিরচিত্রসহ বিভিন্ন প্রমাণ তাঁদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকায় বিরোধ ও সামাজিক অস্থিরতা বাড়ছে বলে অভিযোগ তাঁদের।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য লিটন কুমার সরকার অভিযোগ করে বলেন, প্রবীর চন্দ্র সরকারের ছেলে পলাশ চন্দ্র সরকার পুলিশে কর্মরত। তাঁর নির্দেশনায় বাবা প্রবীর চন্দ্র সরকার ও মা মঞ্জু রাণী মিলে সীমানার খুঁটিগুলো উপড়ে ফেলেছেন। তিনি বাধা দিতে গেলে তাঁকে বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় জড়ানোসহ প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তাঁদের পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রতিকার ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে প্রবীর চন্দ্র সরকার বলেন, বিরোধপূর্ণ জমিটি তাঁদের নিজস্ব সম্পত্তি। এ কারণে তিনি খুঁটিগুলো উপড়ে ফেলেছেন। জমির মালিকানা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জমিটি এজমালি সম্পত্তি ছিল। তাঁর বড় ভাই তা ভাতিজি ও ভাতিজির স্বামী প্রদীপ কুমারের কাছে বিক্রি করে দেন। জমিটি বাড়ির অংশ হওয়ায় তা ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে তাঁদের সঙ্গে আপসের আলোচনা হয়েছিল। তবে কোনো জমি পরিমাপ করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। এ বিষয়ে প্রতিবেদকের সঙ্গে পরে সরাসরি কথা বলবেন জানিয়ে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।