ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের কারণে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় চার কর্মীকে মারধর, তাঁদের অবরুদ্ধ করে রাখা, বিল আদায়ের ৮০ হাজার ৫৩৫ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া এবং এক লাইনম্যানকে জিম্মি করে বিচ্ছিন্ন করা ছয়টি বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরায় চালু করতে বাধ্য করার অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ এর ঈশ্বরগঞ্জ জোনাল অফিসের এজিএম (ওঅ্যান্ডএম) আবু কাওসার মো. ওমর ফারুক বাদী হয়ে শুক্রবার বিকেলে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় লিখিত এজাহার দিয়েছেন। এতে ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার আঠারোবাড়ী ইউনিয়নের রায়পুর বাগড়া গ্রামে। তবে এজাহারে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ঠিকানা হিসেবে আঠারোবাড়ী ইউনিয়নের দশ আশিয়া গ্রামের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ অক্টোবর কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে আঠারোবাড়ী অভিযোগ কেন্দ্রের ইনচার্জের নেতৃত্বে পল্লী বিদ্যুতের একটি দল বকেয়া বিল আদায়ের জন্য রায়পুর বাগড়া গ্রামে অভিযান চালায়। বেলা আনুমানিক দেড়টার দিকে বকেয়া বিলের কারণে কয়েকজন গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলে স্থানীয় কয়েকজন গ্রাহক ক্ষুব্ধ হন।
অভিযোগে বলা হয়, একপর্যায়ে হাবিবুর রহমান ও সাওন মিয়ার নেতৃত্বে অজ্ঞাতনামা ২০ থেকে ২৫ জন লাঠিসোঁটা নিয়ে বিদ্যুৎকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। তাঁরা মিটার রিডার কাম মেসেঞ্জার আবদুল হাকিম, আইনুল, আতিক এবং আঠারোবাড়ী অভিযোগ কেন্দ্রের ইনচার্জ ও লাইন টেকনিশিয়ান এ.এফ.এম. আল মামুনকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এ সময় তাঁদের টেনেহিঁচড়ে হেনস্তা করা হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, বিদ্যুৎকর্মীদের কাছে থাকা বিল আদায়ের ৮০ হাজার ৫৩৫ টাকাসহ একটি ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে লাইনম্যান গ্রেড-১ মুনসুর আলমকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বিচ্ছিন্ন করা ছয়টি বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরায় চালু করতে বাধ্য করা হয়। পরে ঈশ্বরগঞ্জ থানা পুলিশের সহযোগিতায় আঠারোবাড়ী তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরুদ্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্ধার করে।
এজাহারে নাম উল্লেখ করা ব্যক্তিরা হলেন, নুরুল ইসলামের ছেলে হাবিবুর রহমান, আবদুল কাদিরের ছেলে শহিদুল্লাহ, আবদুস সাত্তারের ছেলে আলম মিয়া, আতিকুর রহমানের ছেলে আজিজুর রহমান, আশক আলীর ছেলে মাসুদ পারভেজ, রেনু মিয়ার পুত্র এমদাদুল হক ও নুর মোহাম্মদের ছেলে এনামুল হক টিটু। তাঁদের প্রত্যেকের বিদ্যুৎ হিসাব নম্বরও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ জোনাল অফিসের এজিএম (ওঅ্যান্ডএম) আবু কাওসার মো. ওমর ফারুক বলেন, সরকারি কাজে বাধা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর শারীরিক হামলা এবং রাজস্বের অর্থ ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে থানায় এজাহার দেওয়া হয়েছে।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ রোমন বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।