সন্তানরা দেখাশোনা করে না—এমন অভিযোগ নিয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় হাজির হয়েছিলেন ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধ সিরাজ মিয়া। অভিযোগ শুনে কালবিলম্ব না করে তাৎক্ষণিক পুলিশ টিম পাঠিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ঈশ্বরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাজ্জাদ রোমন। বয়োবৃদ্ধ মানুষের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা ও দ্রুত সেবামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার এ ঘটনায় এলাকায় তাঁর মানবিক ও জনবান্ধব পুলিশিংয়ের ব্যাপক প্রশংসা তৈরি হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সোহাগী ইউনিয়নের চট্টি গ্রামের বাসিন্দা মৃত নওয়াব আলীর ছেলে সিরাজ মিয়া (৭০) থানায় আসেন। বৃদ্ধের অভিযোগ ছিল, ছেলে-মেয়েরা তাঁর কোনো খোঁজখবর নেয় না।
থানার অফিসার ইনচার্জ সাজ্জাদ রোমন মনোযোগ সহকারে অসহায় এই বৃদ্ধের সব কথা শোনেন। বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিতে বিবেচনা করে তিনি তাৎক্ষণিক সংশ্লিষ্ট এলাকায় পুলিশের একটি মোবাইল টিম পাঠান, যাতে সরেজমিনে গিয়ে পারিবারিক পরিস্থিতি যাচাই করে বৃদ্ধের সুরক্ষা ও সম্মান নিশ্চিত করা যায়।
ওসি সাজ্জাদ রোমনের নির্দেশে ঘটনাস্থলে যান মোবাইল টিমের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এএসআই শেখ মোহাম্মদ মনোয়ার হোসেন। তিনি সরেজমিনে গিয়ে দেখতে পান, পরিবারে কোনো অবহেলা নেই; বরং দুই ছেলে ও চার মেয়ে বাবার যথাযথ সেবাযত্ন ও খাবার নিশ্চিত করছেন। তবে বার্ধক্যজনিত মানসিক পরিবর্তনের কারণে সিরাজ মিয়া মাঝে মাঝে তুচ্ছ বিষয়ে রেগে গিয়ে সন্তানদের লাঠি নিয়ে তাড়া করেন। পরে পুলিশ সদস্যদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং সিরাজ মিয়াকে পরিবারের কাছে শান্ত পরিবেশে বুঝিয়ে রাখা হয়।
বৃদ্ধের ছেলে সাইফুল ইসলাম জানান, বয়সের ভারে তাঁর বাবা মাঝেমধ্যেই মানসিক ভারসাম্যহীন আচরণ ও অতিরিক্ত রাগারাগি করেন। এজন্য চিকিৎসাও করানো হয়েছে। অভাবের সংসারে দুই ভাই মিলে বাবার নামে ৪ কাঠা জমি কিনে দিয়েছিলেন। কিন্তু মানসিক অস্থিরতা বাড়লে বাবা প্রায়ই ওই জমি মাদ্রাসা-মসজিদে দান বা বিক্রি করে দেওয়ার কথা বলেন এবং কথায় কথায় বিচার চেয়ে থানায় চলে যান। ইতিপূর্বে গত রোজার মাসেও একইভাবে পুলিশ ডেকে নিয়ে গিয়েছিলেন। তবে আজ ওসি সাহেবের আন্তরিকতা ও পুলিশের এমন দায়িত্বশীল আচরণে তাঁরা কৃতজ্ঞ।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, সাধারণ মানুষ যেখানে থানায় গিয়ে কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছাতে দ্বিধাবোধ করে, সেখানে বৃদ্ধ সিরাজ মিয়ার কথা সরাসরি ধৈর্য ধরে শুনে তাৎক্ষণিক সহায়তা পাঠিয়েছেন ওসি সাহেব। বয়োবৃদ্ধ ও অসহায় মানুষের প্রতি তাঁর এই সহানুভূতিশীল মনোভাব ও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ জনগণের মাঝে পুলিশের প্রতি আস্থা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।