সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট হ্যাকিং, ভুয়া ভিডিও ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের ঘটনা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি মাছরাঙা টেলিভিশনের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার দাবি এবং অভিনেত্রী পরীমণি ও মেহজাবীন চৌধুরীর নাম জড়িয়ে কথিত অন্তরঙ্গ ভিডিও প্রকাশের বিষয়ে আলোচনা সামনে এসেছে।
মাছরাঙা টেলিভিশনের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট সত্যিই হ্যাক হয়েছে কি না, অ্যাকাউন্টটি থেকে কোনো অননুমোদিত কনটেন্ট প্রকাশ করা হয়েছে কি না, কিংবা এর পেছনে কারা জড়িত এসব বিষয়ে নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট টেলিভিশন কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এবং সাইবার নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট তদন্তের তথ্য ছাড়া ঘটনাটিকে নিশ্চিত সংবাদ হিসেবে প্রকাশ করা সমীচীন নয়।
অন্যদিকে, তারকাদের নাম ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা নতুন নয়। এ ধরনের কনটেন্টের সত্যতা যাচাই না করে প্রচার করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, সামাজিক মর্যাদা ও পেশাগত জীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে ভিডিওটি সম্পাদিত, পুরোনো কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি কি না, তা যাচাই করা জরুরি।
অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরীর নাম জড়িয়ে অতীতে ছড়িয়ে পড়া একটি আপত্তিকর ভিডিওকে তিনি গুজব বলে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। এ বিষয়ে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরবর্তী সময়ে পুরোনো ঘটনাটি নতুন করে প্রচারের বিষয়েও ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। ফলে বর্তমান সময়ের কোনো দাবির সঙ্গে পুরোনো ঘটনা মিলিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করা থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো প্রতিষ্ঠানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার সন্দেহ দেখা দিলে দ্রুত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন, দ্বিস্তরীয় যাচাইকরণ চালু, সংশ্লিষ্ট সেশন থেকে লগআউট এবং প্ল্যাটফর্ম কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানানোর মতো পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
একই সঙ্গে, কারও অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত বা অন্তরঙ্গ ভিডিও প্রকাশ কিংবা তা পুনরায় ছড়িয়ে দেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত। এমন কনটেন্ট চোখে পড়লে সেটি ডাউনলোড বা শেয়ার না করে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মে রিপোর্ট করাই দায়িত্বশীল আচরণ।