দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি:
স্বামীর রাজনৈতিক জীবনের অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণে এবার নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন খাদিজা খাতুন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংগ্রাম, প্রতিকূলতা ও অসুস্থতার কারণে স্বামী মজিবুর রহমানের থেমে যাওয়া পথকে এগিয়ে নিতে চান তিনি। নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার চণ্ডিগড় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার প্রত্যয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন খাদিজা খাতুন।
চণ্ডিগড় ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে একমাত্র নারী প্রার্থী হিসেবে তাঁর প্রার্থিতা স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্বামীর রাজনৈতিক আদর্শ, মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয় এবং ইউনিয়নের উন্নয়ন ভাবনাকে সামনে রেখে নির্বাচনী প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।
খাদিজা খাতুনের স্বামী মজিবুর রহমান উপজেলা বিএনপির ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এবং উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৯০ সাল থেকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তিনি।
রাজনৈতিক জীবনে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন মজিবুর রহমান। ২০১২ সালে চণ্ডিগড় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ‘জাহাজ’ প্রতীকে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। ওই নির্বাচনে ছয়জন প্রার্থীর মধ্যে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন।
২০১৬ সালের নির্বাচনে বিএনপির দলীয় প্রতীক ‘ধানের শীষ’ নিয়ে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মজিবুর রহমান। তাঁর পরিবারের দাবি, ওই নির্বাচনে তিনি ১ হাজার ২৫৪ ভোট বেশি পেয়েছিলেন। তবে মাত্র ৯ ভোটের ব্যবধানে তাঁকে পরাজিত দেখানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৬ সালের নির্বাচনের পর মজিবুর রহমান ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন এবং কারাগারেও ছিলেন। এরপর থেকে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। ২০২১ সাল থেকে তিনি অসুস্থ। বর্তমানে তিনি স্মৃতিশক্তির সমস্যায় ভুগছেন বলে পরিবার জানিয়েছে।
স্বামীর দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও বর্তমান অসুস্থতার কথা তুলে ধরে খাদিজা খাতুন বলেন, তাঁর নির্বাচনে আসার মূল লক্ষ্য স্বামীর অপূর্ণ স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা। মানুষের পাশে থেকে কাজ করা এবং চণ্ডিগড় ইউনিয়নের উন্নয়নে ভূমিকা রাখাই তাঁর প্রত্যাশা।
রাজনৈতিক প্রতিকূলতার স্মৃতি
মজিবুর রহমানের পরিবারের দাবি, ২০১২ সালের নির্বাচনের পর তাঁদের বাড়িসহ দুর্গাপুরের ৫ নম্বর মুক্তারপাড়া এলাকায় আরও দুটি বাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধরের ঘটনাও ঘটেছিল বলে পরিবার জানিয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই, মামলা বা সরকারি তদন্তের নথি এই প্রতিবেদনের জন্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলো পরিবারের বক্তব্য হিসেবে উল্লেখ করা হলো।
খাদিজা খাতুন এসএসসি পাস। তাঁর পিতা মো. সৈয়দ আলী মণ্ডল এবং মাতা মোছা. বদরুলহান। তাঁদের বাড়ি পেচিয়া গ্রামে। ছয় ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছোট বোনদের মধ্যে প্রথম।
অন্যদিকে মজিবুর রহমানের পিতা নিহাজ উদ্দিন মুন্সি এবং মাতা খুলনাজ বিবি। তাঁর বাবা ছিলেন কৃষক। পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, তিনি রাজনৈতিকভাবে যুক্ত ছিলেন না। মজিবুর রহমান দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে ছোট।
চণ্ডিগড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে খাদিজা খাতুনের প্রার্থিতা নারী নেতৃত্বের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে বলে তাঁর সমর্থকেরা মনে করছেন। স্বামীর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, নিজের পারিবারিক দায়িত্ববোধ এবং মানুষের সঙ্গে যোগাযোগকে কাজে লাগিয়ে তিনি নির্বাচনী মাঠে এগিয়ে যেতে চান।
তাঁর লক্ষ্য—চণ্ডিগড় ইউনিয়নের মানুষের পাশে থাকা, উন্নয়ন কার্যক্রমে ভূমিকা রাখা এবং স্বামীর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা।