মেঘনা গ্রুপের মালিকানাধীন ‘নাগরিক প্রতিদিন’-এ অধিকাংশ কর্মীর বেতন পরিশোধ হলেও জুনে পুনরায় কাজে যোগ দেওয়া ৭ কর্মীর প্রায় তিন মাসের বেতন এখনো পরিশোধ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। চাকরিতে পুনর্বহালের নির্দেশের পর নিয়মিত দায়িত্ব পালন করেও কেন তাদের বেতন আটকে আছে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।
ঘটনার সূত্রপাত কয়েক মাস আগে। একই সময়ে ‘নাগরিক প্রতিদিন’-এর ২৮ জন কর্মীকে চাকরিচ্যুত করা হয়। ওই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানে তৈরি হয় নানা জটিলতা। পরে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের দাবি, মেঘনা গ্রুপের পক্ষ থেকে চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত মৌখিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়।
এরপর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক টিটো রহমান এবং ডিএমডি শফিউল আলম, মার্কেটিং ডিপার্টমেন্টের হেড আল মামুন ও ডিজিটাল মিডিয়ার হেড বাশারের নির্দেশনায় ওই কর্মীদের পুনরায় কাজে যোগ দিতে বলা হয় বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। নির্দেশনা অনুযায়ী জুন মাসে তারা পুনরায় কাজে যোগ দেন এবং পরবর্তী প্রায় তিন মাস নিয়মিত অফিসে দায়িত্ব পালন করেন।
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, যাদের পুনরায় কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, যারা সেই নির্দেশনা অনুযায়ী নিয়মিত দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের কাজের পারিশ্রমিক এখনো কেন পরিশোধ করা হয়নি?
সংশ্লিষ্ট ৭ কর্মীর অভিযোগ, কয়েক দিন আগে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার পর অন্যান্য কর্মীদের বেতন পরিশোধ করা হলেও তাদের বেতনের বিষয়ে কর্তৃপক্ষ এখনো স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। তাদের দাবি, কখন বেতন দেওয়া হবে, আদৌ দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে বারবার জানতে চেয়েও তারা পরিষ্কার উত্তর পাচ্ছেন না।
আরও অভিযোগ, পাওনা বেতনের বিষয়ে তারা একাধিকবার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। কিন্তু এক পক্ষ থেকে অন্য পক্ষের কাছে যোগাযোগ করতে বলা হলেও শেষ পর্যন্ত তাদের বেতন পরিশোধের বিষয়ে কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি।
এতে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি হচ্ছে, কাজ করানো হলে সেই কাজের পারিশ্রমিক দেওয়ার দায়িত্ব কার? পুনরায় কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশ যদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেই দেওয়া হয়ে থাকে এবং সেই নির্দেশের ভিত্তিতে কর্মীরা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করে থাকেন, তাহলে তাদের বেতন আটকে থাকার যৌক্তিক কারণ কী?
সংশ্লিষ্ট কর্মীরা বলছেন, তারা কোনো অতিরিক্ত সুবিধা বা অনুদান দাবি করছেন না। তারা শুধু যে সময় কাজ করেছেন, সেই সময়ের ন্যায্য পারিশ্রমিক দাবি করছেন।
এদিকে বেতন আটকে থাকায় তাদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনেও গুরুতর আর্থিক সংকট তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা। দীর্ঘদিন ধরে পাওনা না পাওয়ায় কেউ ঋণগ্রস্ত হয়েছেন, কেউ পরিবারের প্রয়োজনীয় খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন।
একই প্রতিষ্ঠানে অন্য কর্মীদের বেতন পরিশোধ করা হলেও নির্দিষ্ট ৭ কর্মীর বেতন আটকে থাকার কারণ কী? পুনরায় কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পর তাদের কাজের স্বীকৃতি ও পারিশ্রমিকের দায় কে নেবে? আর তাদের পাওনা পরিশোধের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সুস্পষ্ট সিদ্ধান্তই বা কোথায়?
এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।
বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মীরা দ্রুত তাদের বকেয়া বেতন পরিশোধ এবং কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে লিখিত ও স্পষ্ট সিদ্ধান্ত দাবি করেছেন।
তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে নাগরিক প্রতিদিন ও মেঘনা গ্রুপের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে গুরুত্বসহকারে যুক্ত করা হবে।