পদবীর দাপট নয়, যোগ্যতার প্রমাণ দিন: ‘কার্ড-বাণিজ্যে’ হুমকির মুখে সাংবাদিকতার মর্যাদা
মোঃ মানিক মিয়া,
স্টাফ রিপোর্টার ।
গণমাধ্যমের সততা ও বস্তুনিষ্ঠতার জায়গায় এখন বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ভুঁইফোড় কিছু প্রচারমাধ্যমের অসাধু ‘কার্ড-বাণিজ্য’ এবং প্রভাবশালীদের ‘পদবীর দাপট’।
পেশাদারিত্ব আর সত্য প্রকাশের সাংবাদিকতা ছেড়ে একশ্রেণীর অসাধু চক্র আইডি কার্ড বা পরিচয়পত্রকে ব্যবসার হাতিয়ার বানিয়েছে, যার ফলে চরম প্রশ্নের মুখে পড়েছে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার মান ও মর্যাদা।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের সংবাদপত্র, অনলাইন ও টিভি চ্যানেলের নাম ভাঙিয়ে একশ্রেণীর অপসাংবাদিক অর্থের বিনিময়ে পরিচয়পত্র (প্রেস কার্ড) বিক্রি করছে।
কোনো প্রশিক্ষণ বা ন্যূনতম যোগ্যতা ছাড়াই কার্ড পেয়ে অনেকেই এলাকাভিত্তিক চাঁদাবাজি, ক্ষমতার দাপট প্রদর্শন এবং অপসাংবাদিকতায় মেতে উঠছে। ফলে যারা বছরের পর বছর কষ্ট করে প্রকৃত পেশাদারিত্ব ধরে রেখেছেন, তারাও সমাজের চোখে হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছেন।
সচেতন মহল ও প্রবীণ সাংবাদিকদের মতে, সাংবাদিকতা কোনো পদবী বা ক্ষমতার মহড়া দেওয়ার জায়গা নয়। এখানে টিকতে হলে কাজের সততা ও মেধার স্বাক্ষর রাখতে হবে। পদবীর দাপট দেখিয়ে নয়, বস্তুনিষ্ঠ প্রতিবেদন ও যোগ্যতার মাধ্যমেই একজন সাংবাদিককে তার অবস্থান তৈরি করতে হয়।
পেশাদার সাংবাদিকদের ক্ষোভ ও দাবি:
অপসাংবাদিকতা রোধ:
ভূঁইফোড় পোর্টাল ও ভুয়া পত্রিকার আইডি কার্ড বিক্রি বন্ধে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।
যোগ্যতার মূল্যায়ন:
পদবী বা পরিচয়পত্রের বাহাদুরি নয়, সাংবাদিকের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ ও লেখার যোগ্যতাকেই মূল মাপকাঠি ধরতে হবে।
আইনগত ব্যবস্থা:
কার্ড-বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত চক্রগুলোকে চিহ্নিত করে সাংবাদিক সমাজ ও প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
সাংবাদিকতা হলো সমাজের দর্পণ এবং রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। এই পেশাকে কলঙ্কমুক্ত করতে কার্ড-বাণিজ্য ও ভুয়া পদবীর দাপট বন্ধ করে সৎ ও যোগ্য সাংবাদিকদের মূলধারায় টিকিয়ে রাখার জোর দাবি জানিয়েছেন সাধারণ পাঠক ও পেশাদার সাংবাদিক সমাজ।