নেত্রকোনার দুর্গাপুর পৌরসভার চরমোক্তারপাড়া এলাকায় সরকারি খাস জমি দখল করে অনুমোদনহীনভাবে তিনতলা ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ৮ শতাংশ সরকারি খাস জমিতে কোনো বৈধ অনুমোদন ও নকশা ছাড়াই ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। এ ঘটনায় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী।
অভিযোগের বিষয়ে গত মঙ্গলবার নেত্রকোনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে লিখিত আবেদন করেন স্থানীয় কয়েকজন ভুক্তভোগী। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চরমোক্তারপাড়া এলাকায় একটি বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ভবনটি সরকারি খাস খতিয়ানের জমিতে নির্মাণ করা হচ্ছে এবং নির্মাণকাজে অনুমোদিত নকশা অনুসরণ করা হচ্ছে না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওই সরকারি জমিটি একটি স্বার্থান্বেষী মহলের নজরে ছিল। সম্প্রতি কাতারপ্রবাসী হাজী নুর হোসেনের অর্থায়নে এবং তার নিয়োজিত কেয়ারটেকার রবি মিয়ার তত্ত্বাবধানে সেখানে তিনতলা ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়। ইতোমধ্যে ভবনের প্রথম তলার অবকাঠামোগত কাজ শেষ হয়েছে এবং দ্বিতীয় তলার ঢালাই ও ইটের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন।
সরকারি জমির মালিকানা ও ভবন নির্মাণের বৈধতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে জমিটির প্রকৃত শ্রেণি, মালিকানা ও নির্মাণকাজের অনুমোদন যাচাই করা প্রয়োজন।
এদিকে নির্মাণকাজকে কেন্দ্র করে পাশের কয়েকটি দরিদ্র পরিবারের বসতঘরও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, নির্মাণকাজের সময় ভাঙা ইট, সিমেন্টের টুকরা ও অন্যান্য নির্মাণবর্জ্য তাদের টিনের চালের ওপর পড়ে। বৃষ্টির সময় এসব বর্জ্য ও ময়লা পানি ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়ায় তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের আরও অভিযোগ, বিষয়টির প্রতিবাদ করতে গেলে কেয়ারটেকার রবি মিয়া ও তার লোকজন তাদের ভয়ভীতি দেখান এবং মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেন। এমনকি বসতভিটা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্যও চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা।
একাধিক ভুক্তভোগী বলেন, “আমরা গরিব মানুষ। সরকারি জমিতে ভবন নির্মাণের পাশাপাশি আমাদের ঘরের ওপর নির্মাণবর্জ্য ও নোংরা পানি ফেলা হচ্ছে। প্রতিবাদ করলে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
এ ঘটনায় এলাকাবাসী সরকারি জমিটির সীমানা নির্ধারণ, নির্মাণকাজের বৈধতা যাচাই এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্মাণকাজ স্থগিত রাখার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারের পাশাপাশি ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং হুমকির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, “সরকারি খাস জমি দখল করে বেআইনিভাবে ভবন নির্মাণের কোনো সুযোগ নেই। লিখিত অভিযোগ আমাদের হস্তগত হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে স্থানীয় অসহায় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সরকারি জমি উদ্ধার ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সরকারি জমির প্রকৃত অবস্থান ও ভবন নির্মাণের বৈধতা স্পষ্ট হবে এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।