মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় পাগলা কুকুরের কামড়ে নারী-পুরুষসহ বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার ঘটনার পর এবার আহতদের চিকিৎসা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কুকুরের আক্রমণে আহত এক ব্যক্তি কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে গেলেও প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন না থাকায় তাকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার রবিরবাজার, পৃথিমপাশা, কানিকিয়ারীসহ আশপাশের এলাকায় একটি কুকুরের আক্রমণে নারী-পুরুষসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। একই সময়ে গরু-ছাগলসহ কয়েকটি গবাদিপশুকেও কুকুরটি কামড়ে দেয়।
আহতদের একজন রিপন আহমেদ। তিনি ২৩৫৯ রবিরবাজার-টিলাগাঁও স্ট্যান্ডের সিএনজি চালক। কুকুরের কামড়ে আহত হওয়ার পর তিনি চিকিৎসার জন্য কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান।
রিপন আহমেদ জানান, হঠাৎ করেই কুকুরটি তাকে কামড় দেয়। পরে তিনি চিকিৎসার জন্য কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে সেখানে প্রাথমিকভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে কুকুরের কামড়ের পর প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন হাসপাতালে না থাকায় তাকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করা হয় বলে তিনি জানান।
রিপন আহমেদ আরো বলেন, কুকুরের কামড়ের পর দ্রুত চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন নেওয়া জরুরি। কিন্তু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভ্যাকসিন না থাকায় তাকে দূরের হাসপাতালে যেতে হয়েছে।
এদিকে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রবিরবাজার ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে দলবদ্ধভাবে বেশ কিছু বেওয়ারিশ কুকুর ঘোরাফেরা করছে। এসব কুকুরের কারণে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীসহ সাধারণ পথচারীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও মানুষ কুকুরের কামড়ের আক্রমণের শিকার হতে পারেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও আহতদের দাবি, আক্রমণাত্মক ও বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কুকুরের কামড়ে আহত রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ভ্যাকসিন নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে জানতে কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সিলেটে অবস্থান করছেন বলে হাসপাতাল থেকে জানানো হয়। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
পরে পৃথিমপাশা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক নারী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, কুকুরের কামড়ে আহত এমন কোনো রোগী সেখানে চিকিৎসা নিতে আসেননি। তবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় ওষুধসহ চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহ করা হয় বলেও তিনি জানান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠার বিষয়টি দীর্ঘদিনের হলেও কার্যকর উদ্যোগের অভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসছে না। একই সঙ্গে কুকুরের কামড়ে আহতদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন উপজেলা পর্যায়ে নিশ্চিত না থাকলে দুর্গম এলাকার মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে।
এ অবস্থায় সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেওয়ারিশ ও আক্রমণাত্মক কুকুর নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা এবং কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কুকুরের কামড়ের রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ভ্যাকসিনের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।