৫ই আগস্টের পটপরিবর্তন ও বৈষম্যবিরোধী মামলা: যুবলীগ নেতা আক্তারের অবস্থান এবং পরিবারের ভূমিকা নিয়ে গুঞ্জন
নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর:
২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই গাজীপুর মহানগরীর ৫৪ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি পদপ্রার্থী মো. আক্তার হোসেন গা ঢাকা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে শারীরিক উপস্থিত না থাকলেও অনলাইনে ও স্থানীয় রাজনীতিতে তাঁকে নিয়ে আলোচনা থামেনি; বরং তাঁর বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার ঘটনায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে আত্মগোপনে থাকা এই যুবলীগ নেতাকে ঘিরে স্থানীয় মহলে নতুন এক সমীকরণ নিয়ে আলোচনা চলছে। স্থানীয়দের একাংশের প্রশ্ন—পরিবারের ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত ভাইদের প্রভাবে বা কৌশলেই কি আক্তার হোসেন নিজেকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন?
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মো. আক্তার হোসেন যুবলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যদের রয়েছে সম্পূর্ণ বিপরীত ধারার রাজনৈতিক পরিচয়। তাঁর ভাই মো. সাজ্জাদ হোসেন বিএনপির একজন সক্রিয় নেতা এবং অপর ভাই আমজাদ হোসেন জামায়াত ও এনসিপির রাজনীতির সাথে যুক্ত রয়েছেন। পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একই পরিবারের ভেতরে এমন বহুমুখী রাজনৈতিক অবস্থান থাকায়, ভিন্ন দলের প্রভাব খাটিয়ে বা কৌশলগত সুরক্ষার মাধ্যমে আক্তার হোসেন নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন কি না—তা নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা কানাঘুষা ও গুঞ্জন রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতার পালাবদলের পর অনেক নেতা বহুমুখী পারিবারিক পরিচয়ের সুযোগ নিয়ে গা বাঁচানোর বা নিজেদের রক্ষা করার কৌশল নিয়ে থাকেন। তবে বৈষম্যবিরোধী মামলার আসামিরা এভাবে সুরক্ষা পেতে পারেন কি না, তা নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন রয়েছে। এ বিষয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজরদারি এবং সংশ্লিষ্টদের প্রকৃত ভূমিকা নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা চলছে।