নেত্রকোনার দুর্গাপুরে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের উপজেলা ও পৌর শাখার উদ্যোগে কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দীর্ঘদিন পর নারী নেতাকর্মীদের এমন আয়োজনে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে প্রাণচাঞ্চল্য। কর্মী সমাবেশকে ঘিরে দলীয় কার্যালয়ে ছিল নারী নেতাকর্মীদের সরব উপস্থিতি।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় দুর্গাপুর উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে এ কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন নেত্রকোনা জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক হাফিজা আক্তার। বিশেষ অতিথি ছিলেন নেত্রকোনা সদর উপজেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শাহনাজ আক্তার। এ ছাড়া নাজমা, চায়না, আশা, নুরুজাহান ও আরিফাসহ মহিলা দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে কলমাকান্দা উপজেলা থেকেও বিএনপি ও মহিলা দলের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি কলি আক্তার, মহিলা দলের আহ্বায়ক রেখা আক্তার, সাধারণ সম্পাদক রাহেলা আক্তার, যুগ্ম আহ্বায়ক করুণা পাঠান ও যুগ্ম আহ্বায়ক সেলিনা আক্তার।
এ ছাড়া দুর্গাপুর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব জামাল উদ্দিন মাস্টার, পৌর বিএনপির সভাপতি আতাউর রহমান ফরিদ, সাধারণ সম্পাদক হারেজ গনি, পৌর যুবদলের সদস্য সচিব আল ইমরান (সম্রাট) গনিসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাফিজা আক্তার বলেন, নারীদের কাজের মাধ্যমে রাজনীতিতে সামনে আসার সুযোগ দিতে হবে। যোগ্যতা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও দলের প্রতি সক্রিয় ভূমিকার ভিত্তিতে নারী নেতাকর্মীদের নেতৃত্বে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি বলেন, আহ্বায়ক কমিটি গঠনের মাধ্যমে নারী নেতাকর্মীদের সাংগঠনিক দক্ষতা ও সক্রিয়তা যাচাই করা হবে। পরবর্তীতে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে পর্যায়ক্রমে কমিটি গঠন করা হবে। যারা ভালো কাজ করবেন, সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় থাকবেন এবং দলের জন্য ভূমিকা রাখবেন, তাদের ধীরে ধীরে নেতৃত্বে সামনে নিয়ে আসা হবে। এ সময় তিনি ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই বিষয়টি মনে রাখার জন্য নারী নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।
দীর্ঘদিন পর আয়োজিত কর্মী সমাবেশে নারী নেতাকর্মীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে মুখর হয়ে ওঠে দুর্গাপুর উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়। তাঁদের সরব উপস্থিতি ও স্লোগানে সমাবেশস্থলে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
আয়োজকরা জানান, দুর্গাপুরে প্রথমবারের মতো আয়োজিত এ কর্মী সমাবেশের মাধ্যমে নারী নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। পর্যায়ক্রমে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নেও এ ধরনের কর্মী সমাবেশ আয়োজন করা হবে।