পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ পঞ্চগড় সদর উপজেলার মাগুরা সিপাহীপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের এক অফিস সহায়কের বিরুদ্ধে নিয়মিত বিদ্যালয়ে না আসা, কর্মঘণ্টার মধ্যে প্রধান শিক্ষকের অনুমতি ছাড়াই বিদ্যালয় ত্যাগ এবং স্কুলের দায়িত্ব ফেলে গরুর হাটে ব্যবসা করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি বলে জানিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত অফিস সহায়ক আতোয়ার রহমান ২০২২ সালে বিদ্যালয়টিতে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে যোগদান করেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে তিনি নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকেন না। বিশেষ করে ২০২৫ সালের জুন মাসের পর থেকে তার বিদ্যালয়ে উপস্থিতি আরও অনিয়মিত হয়ে পড়েছে।
একাধিক দিন বিদ্যালয়ে খোঁজ নিয়ে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। আজ বৃহস্পতিবার সেই স্কুলে খোঁজখবর নিয়ে জানা যায় আজও তিনি স্কুলে উপস্থিত নেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেন, সপ্তাহে পাঁচ দিন বিদ্যালয় খোলা থাকলেও ওই কর্মচারী বিদ্যালয়ে এলেও এক থেকে দুই ঘণ্টা অবস্থান করে প্রধান শিক্ষকের অনুমতি ছাড়াই চলে যান। তিনি গরুর ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। যেদিন পঞ্চগড়ে গরুর হাট বসে, সেদিন বিদ্যালয়ের দায়িত্ব ফেলে ব্যবসার কাজে চলে যান। বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে চললেও কোনো পরিবর্তন হয়নি।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃজামিল হোসেন বলেন, আতোয়ার রহমান ২০২২ সালে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে যোগদান করেন। কিন্তু ২০২৫ সালের জুন মাসের পর থেকে তিনি নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসছেন না। সপ্তাহে পাঁচ দিন বিদ্যালয় খোলা থাকলেও তিনি স্কুলে এলেও এক থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যে কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়াই বিদ্যালয় ত্যাগ করেন। তার অনিয়মিত উপস্থিতি ও দায়িত্বে অবহেলার বিষয়ে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তিনি শোকজের কোনো জবাব দেননি। একজন কর্মচারীর এমন আচরণ বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ভঙ্গের শামিল। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত অফিস সহায়ক আতোয়ার রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোনটা রিসিভ করে বলেন আমি এই মুহূর্তে গরুহাটিতে রয়েছি। এ বিষয়ে পরে কথা বলবো আপনার সঙ্গে।
এ বিষয়ে পঞ্চগড় সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শওকত আলী বলেন, বিদ্যালয়ের কোনো কর্মচারীর বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, অনিয়মিত উপস্থিতি কিংবা অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগের অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আসাদুজ্জামান আপেল
পঞ্চগড়