আগামীকাল বুধবার সকালে খুলে দেওয়া হচ্ছে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের আশুলিয়া থেকে ধউর বেড়িবাঁধ পর্যন্ত ৩ দশমিক ৭১ কিলোমিটার দীর্ঘ দুটি সার্ভিসলেন সেতু। আশুলিয়ার তীব্র যানজট ও দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমাতে খুলে দেওয়া হচ্ছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ৩ দশমিক ৭১ কিলোমিটার দীর্ঘ দুটি সার্ভিসলেন সেতু খুলে দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম।
এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের পরিচালক বলেন, ধউর থেকে আশুলিয়া এবং আশুলিয়া থেকে আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত সেতু দুটি চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে। এতে করে মহাসড়কের যানজট অনেকটাই লাঘব হবে। এছাড়া এসব সার্ভিসলেন ব্যবহারে কোনো ধরনের টোল দিতে হবে না বলেও নিশ্চিত করেন তিনি।
মূলত সার্ভিসলেন দুটি চালু করে মূল এক্সপ্রেসওয়ের চার লেনের কাজ করা হবে এবং নিয়মিত ট্রাফিক ব্যবস্থা চালু থাকবে।
সরেজমিনে জানা যায়, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজের কারণে চলমান মহাসড়ক সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এতে এ অঞ্চলে তীব্র যানজট নিত্যদিনের ভোগান্তিতে পরিণত হয়েছে।
তুরাগ নদীর ওপর দিয়ে বয়ে চলা মহাসড়কে আশুলিয়া থেকে বেড়িবাঁধ পর্যন্ত মাত্র চার কিলোমিটার রাস্তা অতিক্রম করতে যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লেগে যেত। দীর্ঘদিন ধরে এ পথ অতিক্রম করতে গিয়ে চরম লোকসান ও ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছিল পরিবহনচালক ও সাধারণ যাত্রীদের।
তবে তুরাগ নদী ও মহাসড়কের ওপর দিয়ে নির্মাণ করা ৩ দশমিক ৭১ কিলোমিটারের এই দুটি উড়াল সার্ভিসলেন সেতু উন্মুক্ত হলে কয়েক ঘণ্টার দীর্ঘ পথ মাত্র কয়েক মিনিটে অতিক্রম করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। সেতু চালুর খবরে পরিবহনচালক ও যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।
এদিকে নতুন এই সার্ভিসলেনগুলোতে ছিনতাই বা অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হলেও তা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
এ বিষয়ে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস-উত্তর) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, যাত্রীদের নিরাপত্তায় ওই অংশে পুলিশি টহল ও চেকপোস্ট জোরদার করা হবে।
উল্লেখ্য, মোট ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের সামগ্রিক অগ্রগতি বর্তমানে ৭২ শতাংশ। ২০২৮ সালের জুন মাসের মধ্যে প্রকল্পের সম্পূর্ণ কাজ শেষ করার সরকারি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত ১৩ আগস্ট সেতু বিভাগের সম্মেলন কক্ষে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি, বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা সভায় সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ এই নির্দেশনা দেন।