সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান। দায়িত্ব পালনকালে প্রশাসনিক দক্ষতা,কর্মনিষ্ঠা ও সাধারণ মানুষের প্রতি আন্তরিক আচরণের মাধ্যমে তিনি স্থানীয়দের মধ্যে প্রশংসা ও আস্থা অর্জন করেছেন। তার বিদায়ে কাজিপুরে তৈরি হয়েছে আবেগঘন পরিবেশ। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রমকে গতিশীল রাখতে সক্রিয় ছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান। বিশেষ করে নির্বাচনকালীন সময়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, সরকারি দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং জনসাধারণের বিভিন্ন সমস্যা দ্রুত সমাধানে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গিয়েছে,নির্ধারিত কার্যলয় সময়ের বাইরে গিয়েও প্রশাসনিক কাজ তদারকিতে তার আগ্রহ ছিলো উল্লেখযোগ্য। অনেক সময় দিনের কর্মসূচি শেষ হওয়ার পরও গভীর রাত পর্যন্ত কার্যলয়ে থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথি,প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতেন তিনি। দায়িত্বের প্রতি তার এমন নিষ্ঠা সহকর্মী ও স্থানীয়দের কাছেও প্রশংসিত হয়েছেন। উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কার্যক্রম পরিদর্শন ও তদারকির পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে সরাসরি উপস্থিত থেকেছেন তিনি। সাধারণ মানুষের অভিযোগ ও সমস্যার কথা শুনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রেও তার সক্রিয়তা ছিলো। ফলে প্রশাসনের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ আরো সহজ হয়েছে বলে মনে করেছেন স্থানীয়রা। কাজিপুরে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট অভিযানেও সরাসরি নেতৃত্ব দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোস্তাফিজুর রহমান। মাদকবিরোধী অভিযান,ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে কার্যক্রম,বাজার তদারকি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উপজেলা প্রশাসনের নিয়মিত কর্মসূচিতে তাকে মাঠে দেখা যেতো। শুধু সরকারি দপ্তরে বসে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা নয়, বাস্তব পরিস্থিতি দেখতে তিনি বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। স্থানীয় সমস্যা চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছেন। তার দায়িত্ব পালনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিলো সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নিজেদের সমস্যা নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের কাছে গেলে তিনি তা গুরুত্ব দিয়ে শুনতেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করতেন। এই কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি কাজিপুরবাসীর কাছে একজন সহজপ্রাপ্য ও জনবান্ধব কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি উপজেলার বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডেও তার উপস্থিতি ছিলো উল্লেখযোগ্য। কোনো সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার প্রবণতা মানুষের মধ্যে তার প্রতি আস্থা তৈরি করেছে।মোস্তাফিজুর রহমানের কর্মদক্ষতা ও দায়িত্ব পালনের প্রতি আন্তরিকতার বিষয়টি সহকর্মীদের কাছেও প্রশংসিত হয়েছে। ব্যস্ত কর্মসূচির মধ্যেও সরকারি দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতা বোঝার চেষ্টা করেছেন তিনি। ফলে কাজিপুর উপজেলা প্রশাসনের নিয়মিত কার্যক্রমে তার সক্রিয় ভূমিকা দৃশ্যমান ছিলো। এরই মধ্যে পদোন্নতি পেয়ে মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে নতুন দায়িত্বে যুক্ত হয়েছেন। কাজিপুরে দায়িত্ব পালনের সময় অর্জিত অভিজ্ঞতা এবং প্রশাসনিক দক্ষতা নতুন কর্মস্থলেও কাজে লাগবে বলে আশাবাদ ব্যাক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা কাজিপুরে তার দায়িত্বের সময়কাল স্থানীয় মানুষের কাছে বিভিন্ন কারণে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। বিশেষ করে জনসাধারণের সমস্যা শুনতে আগ্রহ,মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় উপস্থিতি এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে দায়িত্বশীলতার কারণে তিনি স্থানীয়দের প্রশংসা পেয়েছেন। বিদায় বেলায় কাজিপুরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে তার নতুন দায়িত্ব নিয়ে শুভকামনা জানিয়েছেন। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, কাজিপুরে যেভাবে নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন,নতুন পদেও একইভাবে মানুষের সেবা ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন তিনি। নতুন দায়িত্বে মোঃ মোস্তাফিজুর রহমানের সফলতা কামনা করেছেন কাজিপুরের সর্বস্তরের মানুষ। একই সঙ্গে তার কর্মজীবনের পরবর্তী ধাপ আরো সাফল্যমণ্ডিত ও উজ্জ্বল হবে—এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেছেন তারা।