বাংলাদেশের শিশুদের সুস্বাস্থ্য ও নিরাপদ খাদ্যাভ্যাস নিশ্চিত করতে দোকান থেকে কেনা বিভিন্ন ধরনের জুস, কোমল পানীয় ও অতিরিক্ত চিনি-সমৃদ্ধ পানীয় খাওয়ানো থেকে অভিভাবকদের বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে সাংবাদিক ঐক্য পরিষদ (সাওপ)।
সাওপের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শিশুদের খাবার ও পানীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। বাজারজাত কোনো পানীয় সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য ও উপাদান যাচাই না করে শিশুদের নিয়মিত তা খাওয়ানোর পরিবর্তে সম্ভব হলে তাজা ও বিশুদ্ধ ফল সংগ্রহ করে বাড়িতে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে জুস তৈরি করে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মৌসুমি ফল ও ডাবের পানি শিশুর খাদ্যাভ্যাসে রাখার আহ্বান জানানো হয়।
সাওপের ভাইস চেয়ারম্যানরা বলেন, “শিশুরা আমাদের ভবিষ্যৎ। তাদের হাতে কী তুলে দিচ্ছি, সে বিষয়ে অভিভাবকদের বিশেষভাবে সতর্ক হতে হবে। শুধু আকর্ষণীয় প্যাকেট বা স্বাদের কারণে কোনো পানীয় শিশুকে দেওয়া উচিত নয়। সম্ভব হলে তাজা ফল ও ঘরে তৈরি পানীয়কে অগ্রাধিকার দিতে হবে।” তিনি আরও বলেন, শিশুদের ছোটবেলা থেকেই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসে অভ্যস্ত করে তুললে ভবিষ্যতে তারা আরও সচেতন ও সুস্থ জীবনযাপন করতে পারবে।
সাওপের প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “শিশুদের জন্য নিরাপদ খাবার নিশ্চিত করা শুধু পরিবারের দায়িত্ব নয়; এটি একটি সামাজিক দায়িত্বও। অভিভাবকদের পাশাপাশি খাদ্য উৎপাদনকারী ও বিক্রেতাদেরও শিশুদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।”
তিনি বলেন, কোনো খাবার বা পানীয়ের গুণগত মান নিয়ে সন্দেহ থাকলে তা শিশুদের না দেওয়াই ভালো। পরিবারের সামর্থ্য অনুযায়ী স্থানীয়ভাবে পাওয়া তাজা ফল ব্যবহার করে ঘরে পানীয় তৈরি করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সাংবাদিক ঐক্য পরিষদ (সাওপ)-এর চেয়ারম্যান বলেন, “একটি সুস্থ প্রজন্ম গড়ে তুলতে সচেতনতার বিকল্প নেই। আমরা কাউকে আতঙ্কিত করতে চাই না; বরং অভিভাবকদের সচেতন করতে চাই। শিশুদের জন্য খাবার ও পানীয় কেনার আগে উপাদান, মান, উৎপাদন ও মেয়াদসহ প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করুন।”
তিনি আরও বলেন, “প্রয়োজনে বিশুদ্ধ ফল কিনে বাড়িতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশে জুস তৈরি করে শিশুদের খাওয়ানো যেতে পারে। পাশাপাশি ডাবের মতো প্রাকৃতিক পানীয়ও উপকারী বিকল্প হতে পারে। সন্তানকে ভালোবাসার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো তার জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর খাবার নিশ্চিত করা।”
সাওপের পক্ষ থেকে দেশের সব অভিভাবকের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে—শিশুদের খাদ্যাভ্যাসে সচেতন হোন, নিরাপদ খাবার বেছে নিন এবং একটি সুস্থ প্রজন্ম গড়ে তুলতে পরিবার থেকেই সচেতনতার শুরু করুন।
সাংবাদিক ঐক্য পরিষদ (সাওপ)
“সচেতনতা ছড়াই, সুস্থ প্রজন্ম গড়াই।”