প্রতিটি সেক্টরেই আজ ডেটা সায়েন্স এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অভাবনীয় জয়জয়কার চলছে। এই বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে বিশ্বমানের প্রযুক্তির সঙ্গে তরুণ প্রজন্মকে পরিচিত করতে এবং গ্লোবাল লিডার তৈরি করতে জাপান সরকার ও বিশ্বখ্যাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তারই ধারাবাহিকতায়, জাপানের শীর্ষস্থানীয় এবং এশিয়ার অন্যতম সেরা বিদ্যাপীঠ টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিখ্যাত মাতসুও-ইওয়াসাওয়া ল্যাবরেটরি নিয়ে এসেছে একটি দুর্দান্ত সুযোগ। জাইকার সার্বিক সহায়তায় প্রতিষ্ঠানটি চালু করেছে ‘গ্লোবাল কনজিউমার ইন্টেলিজেন্স জিআইসি ওয়ার্ল্ড’ শীর্ষক একটি বিশেষায়িত প্রোগ্রাম।
সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হলো, জাপানি এই প্রিমিয়াম কোর্সে অংশগ্রহণের জন্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরাও সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। আগামী ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া এই তিন মাসব্যাপী ভার্চুয়াল প্রোগ্রামে অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীরা বিশ্বমানের কারিকুলামে নিজেদের দক্ষ করে তুলতে পারবেন।
অনলাইন কোর্সে যা পড়ানো হবে
কোর্সটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ও প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর শতভাগ হাতেকলমে শেখার সুযোগ।
শিক্ষার্থীরা কেবল গতানুগতিক তত্ত্বীয় জ্ঞান অর্জনই করবেন না, বরং বিভিন্ন রিয়েল-লাইফ কম্পিটিশন এবং বাস্তব ব্যবসায়িক প্রজেক্টে সরাসরি কাজ করার মাধ্যমে ইন্ডাস্ট্রি-রেডি দক্ষতা অর্জন করতে পারবেন।
পাঠ্যক্রমে ডেটা সায়েন্সের মূল ভূমিকা, সুপারভাইজড ও আনসুপারভাইজড লার্নিং, ফিচার ইঞ্জিনিয়ারিং, এসকিউএল এবং টাইম সিরিজ অ্যানালাইসিসসহ আধুনিক প্রযুক্তির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের শেখার প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও সাবলীল করতে পাইথন প্রোগ্রামিংয়ের ওপর বিশেষ সাপ্লিমেন্টারি সেশনের ব্যবস্থা থাকবে।
পাশাপাশি, যে কোনো সমস্যায় শিক্ষার্থীদের সহায়তার জন্য টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টদের ডেডিকেটেড অনলাইন অফিস আওয়ারের সুযোগও রাখা হয়েছে।
আবেদনের যোগ্যতা ও শর্তাবলি
জিআইসি ওয়ার্ল্ড প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের জন্য আবেদনকারীকে চলতি বছরের ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে যে কোনো স্বীকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান– যেমন স্কুল, কলেজ, ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে যুক্ত থাকতে হবে।
এটি একটি সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক প্রোগ্রাম হওয়ার কারণে বিশ্বের যে কোনো প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা নিজেদের ঘরে বসেই এতে অংশ নিতে পারবেন।
আবেদনের মূল প্রমাণ হিসেবে শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অফিশিয়াল আইডি কার্ড অথবা বৈধ এনরোলমেন্ট সার্টিফিকেট আপলোড করতে হবে। তবে যারা বর্তমানে কোনো ডিগ্রি প্রোগ্রামে এনরোলড নন বা শিক্ষার্থী নন, তাদের জন্য এই সুযোগ প্রযোজ্য নয়।
অন্যদিকে, খণ্ডকালীন (পার্ট-টাইম) শিক্ষার্থী কিংবা যারা কোর্স চলাকালীন সময়েই নিজেদের স্নাতক বা ডিগ্রি পড়ালেখা শেষ করবেন, তারাও এই প্রোগ্রামে আবেদন করার জন্য সম্পূর্ণ যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
বিস্তারিত: https://weblab.t.u-tokyo.ac.jp/en/lecture/gci/