বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের পরিচয়ই আমাদের একমাত্র সমাধান, একমাত্র পরিচয় এবং একমাত্র সংহতি বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে গবেষক ও সেন্টার ফর বাংলাদেশ স্টাডিজ (সিবিএস)-এর সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিনের ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ : তারেক রহমান ও বর্তমান প্রেক্ষাপট’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন ও প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।
সিবিএস-এর আয়োজনে বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট নজমুল হক নান্নুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক ও সংসদ-সদস্য এডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. তাহমিনা আখতার টফি।
উপস্থিত ছিলেন- পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যলয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল লতিফ মাসুম, বিএনপির জনশক্তিবিষয়ক সম্পাদক এম এ মালেক প্রান্তিক প্রমুখ।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার সফলভাবে ১৮০ দিন পূর্ণ করেছে। আমরা কী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, কতটা বাস্তবায়ন করতে পেরেছি, তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জাতিকে অবহিত করেছি। এর মধ্য দিয়ে একটি জবাবদিহিতার সংস্কৃতি তৈরি করেছি। এর সঙ্গে ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ : তারেক রহমান ও বর্তমান প্রেক্ষাপট’ বইয়ের গভীর প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক দর্শনকে মোটা দাগে চারটি ভাগে ভাগ করা যায়। এর মধ্যে একটি বাঙালি জাতীয়তাবাদ। অথচ এই ভ‚খণ্ডে বাঙালি ছাড়াও বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ বাস করে। এতে সৃষ্ট এক ধরনের অস্পষ্টতার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনীতিতে।
মন্ত্রী বলেন, এই রাজনৈতিক নৈরাজ্য ও অদূরদর্শিতার জঞ্জাল দূর করার ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তিনি সব পরিচয়ের ঊর্ধ্বে গিয়ে নাগরিক পরিচয়ের ভিত্তিতে ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ কাঠামোবদ্ধ করেন। আজ এটি প্রমাণিত যে, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের এই পরিচয়ই আমাদের একমাত্র সমাধান। শহীদ জিয়ার এই অবদানের প্রভাব এই ভ‚খণ্ড যতদিন থাকবে, ততদিন বজায় থাকবে।
লেখক রুহুল আমিনকে ধন্যবাদ জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এই গ্রন্থে লেখক ইতিহাসের কালানুক্রমিক ধারা এবং বর্তমান প্রেক্ষাপটে সরকার গঠনের অন্তনিহিত শক্তি ও তারেক রহমানের নেতৃত্বকে তুলে ধরেছেন।
সিপাহি-জনতার মাধ্যমে শহীদ জিয়ার রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার প্রসঙ্গ টেনে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের মাধ্যমে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, পাহাড়ি, বাঙালি-অবাঙালি নির্বিশেষে দেশের সব নাগরিককে এক সুতোয় গেঁথেছিলেন শহীদ জিয়া।
মন্ত্রী বলেন, ঐতিহাসিক ঘটনা বিশ্লেষণ করলেই প্রমাণিত হয় যে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদই এদেশের সবচেয়ে শক্তিশালী রাজনৈতিক মতাদর্শ। যার মধ্যেই লুকিয়ে আছে আমাদের সব শক্তির কেন্দ্রবিন্দু। আজকের তারেক রহমানের দেশ পরিচালনার যে দক্ষতা, যোগ্যতা এবং যে প্রেক্ষাপট তিনি পেয়েছেন, তার সবই এসেছে শহীদ জিয়ার সেই ঐতিহাসিক দূরদর্শিতা, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব থেকে।