সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ) আসনের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে সরকারি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি) প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে রায়গঞ্জের সাধারণ মানুষ। তবে এলাকাবাসীর দাবি—এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান স্থাপনের ক্ষেত্রে রায়গঞ্জ উপজেলা সদর, ধানঘড়া এবং এর আশপাশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর যোগাযোগ সুবিধা, প্রশাসনিক গুরুত্ব ও জনসাধারণের সহজ যাতায়াতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
রায়গঞ্জের মানুষের জন্য একটি আধুনিক সরকারি টিটিসি সময়ের দাবি। উপজেলার বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী, বেকার যুবক-যুবতী ও কর্মপ্রত্যাশী মানুষ কারিগরি ও ভাষাগত প্রশিক্ষণের সুযোগ থেকে এখনো প্রত্যাশিতভাবে বঞ্চিত। একটি সরকারি টিটিসি প্রতিষ্ঠিত হলে দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে এবং এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও আরও গতিশীল হবে।
এ কারণে রায়গঞ্জ উপজেলা সদর ও ধানঘড়া বাজারকে কেন্দ্র করে আশপাশের মানুষের সহজ যাতায়াতের বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনার দাবি রাখে। ধানঘড়া রায়গঞ্জের একটি গুরুত্বপূর্ণ জনবসতি ও বাণিজ্যিক এলাকা। উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের সঙ্গে এ এলাকার যোগাযোগ রয়েছে। ফলে ধানঘড়া ও উপজেলা সদরসংলগ্ন উপযুক্ত স্থানে টিটিসি স্থাপন করা হলে রায়গঞ্জের প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থী ও প্রশিক্ষণার্থীদের জন্যও প্রতিষ্ঠানটিতে যাতায়াত সহজ হবে।
স্থান নির্ধারণের আগে রায়গঞ্জ উপজেলা সদর, ধানঘড়া এবং আশপাশের এলাকার মানুষের দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা ও যোগাযোগ বাস্তবতা সমান গুরুত্ব দিয়ে মূল্যায়ন করা হবে।
বিশেষ করে টিটিসি কোনো সাধারণ স্থাপনা নয়; এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি দক্ষতা উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান। এখানে শিক্ষার্থী ও প্রশিক্ষণার্থীরা কারিগরি শিক্ষা, বিভিন্ন ট্রেড, ভাষা শিক্ষা এবং কর্মমুখী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবে। তাই এমন প্রতিষ্ঠান এমন জায়গায় হওয়া প্রয়োজন, যেখানে উপজেলার সর্বাধিক সংখ্যক মানুষ সহজে ও কম খরচে পৌঁছাতে পারে।
রায়গঞ্জের সচেতন নাগরিকদের মতে, উপজেলা সদর ও ধানঘড়া-কেন্দ্রিক এলাকায় টিটিসি প্রতিষ্ঠিত হলে শুধু রায়গঞ্জ নয়, আশপাশের ইউনিয়নগুলোর মানুষও সরাসরি উপকৃত হবে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক না কেন, সেটি যেন সত্যিকার অর্থে রায়গঞ্জের সর্বস্তরের মানুষের সর্বোচ্চ উপকারে আসে।
স্থানীয়দের দাবি, রায়গঞ্জের উন্নয়নের সঙ্গে জড়িত এত বড় একটি প্রতিষ্ঠান নিয়ে কোনো ধরনের বিভাজন নয়; বরং রায়গঞ্জের মানুষের সামগ্রিক স্বার্থকে সামনে রেখে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ধানঘড়া, রায়গঞ্জ সদর ও আশপাশের এলাকার মানুষের যাতায়াত, শিক্ষার্থী সংখ্যা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের সুযোগ এবং জনসেবার বিষয়গুলো বিবেচনা করে উপযুক্ত স্থান নির্বাচন করা জরুরি।
রায়গঞ্জবাসীর প্রত্যাশা, সরকারি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগটি দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে উপজেলার হাজারো তরুণ-তরুণীর জন্য দক্ষতা অর্জন ও কর্মসংস্থানের নতুন দরজা খুলে যাবে। আর এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানটি রায়গঞ্জ উপজেলা সদর, ধানঘড়া ও আশপাশের মানুষের জন্য সর্বাধিক সহজলভ্য ও জনবান্ধব স্থানে প্রতিষ্ঠিত হলে তা হবে পুরো উপজেলার মানুষের জন্য একটি বড় অর্জন।
রায়গঞ্জবাসীর একটাই প্রত্যাশা—টিটিসি চাই, তবে এমন স্থানে চাই যেখানে রায়গঞ্জের সর্বাধিক মানুষের সহজে পৌঁছানোর সুযোগ থাকবে। ধানঘড়া ও উপজেলা সদরসহ আশপাশের মানুষের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক।