নারায়ণগঞ্জে তীব্র গ্যাস সংকট: চুলা জ্বলছে না বহু ঘরে, চরম বিপাকে হাজারো পরিবার
মোঃ মানিক মিয়া,
স্টাফ রিপোর্টার।
শিল্প ও বাণিজ্যিক নগরী নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় চরম আকার ধারণ করেছে তীব্র গ্যাস সংকট। কয়েকদিন ধরে চরম গ্যাস স্বল্পতার কারণে গৃহস্থালি কাজকর্ম স্থবির হয়ে পড়েছে। সকাল থেকে শুরু করে মাঝরাত পর্যন্ত লাইনের গ্যাস না থাকায় রান্না-বান্না করতে পারছেন না হাজারো পরিবার। বিকল্প হিসেবে ইলেকট্রিক হিটার, মাটির চুলা কিংবা চড়া দামে এলপিজি (LPG) সিলিন্ডার ব্যবহার করতে গিয়ে চরম আর্থিক ও মানসিক চাপে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
গৃহস্থালিতে চরম দুর্ভোগ:
শহরের কালীরবাজার, চাষাড়া, দেওভোগ, আমলাপাড়া, সিদ্ধিরগঞ্জ, ফতুল্লা ও বন্দর এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন সকাল হতে না হতেই লাইনে গ্যাসের চাপ কমতে কমতে একবারে শূন্যে নেমে আসে। আবার কোনো কোনো এলাকায় সারাদিন একটুও গ্যাস থাকে না, যা কিছুটা আসে তা-ও মাঝরাতে।
ভোর সকালে উঠে রান্না শেষ করার চেষ্টা করলেও গ্যাসের লো-প্রেসারের কারণে সময়মতো পরিবারের সদস্য ও স্কুলগামী সন্তানদের খাবার তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে অনেকেই হোটেল থেকে চড়া দামে নিম্নমানের খাবার কিনে খাচ্ছেন।
এক ভুক্তভোগী গৃহিণী রেহেনা বেগম জানান:
"প্রতি মাসে নিয়মিত গ্যাসের বিল পরিশোধ করছি, অথচ রান্নার সময় চুলা জ্বলে না। গভীর রাতে উঠে রান্না করতে হয়, যা কোনো মানুষের পক্ষে প্রতিদিন সম্ভব নয়। সিলিন্ডার কিনে ব্যবহার করতে গিয়ে সংসারের বাজেট হিমশিম খাচ্ছে।"
হোটেল নির্ভরতা ও অতিরিক্ত খরচ:
গ্যাস সংকটের কারণে বাধ্য হয়ে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে হোটেলের খাবারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। তবে প্রতিদিন হোটেল থেকে খাবার কিনে খাওয়া অনেক পরিবারের জন্যই ব্যয়বহুল হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছেন ক্ষুদ্র আয়ের মানুষ ও চাকরিজীবীরা।
স্থানীয়দের দাবি ও ক্ষোভ:
গ্যাস সংকটের স্থায়ী সমাধান চেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নারায়ণগঞ্জবাসী।
তাদের দাবি:
নিয়মিত গ্যাস সরবরাহ: আবাসিক গ্রাহকদের জন্য নির্দিষ্ট সময়ে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
লাইনের সংস্কার:
পুরোনো ও জরাজীর্ণ গ্যাস পাইপলাইন দ্রুত মেরামত বা পরিবর্তন করা প্রয়োজন।
অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ:
অবৈধ গ্যাস সংযোগের কারণে যেন বৈধ গ্রাহকরা বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানো জরুরি।
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো দ্রুত এই সমস্যা সমাধানের জোর দাবি জানিয়েছেন।