সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে ঘুষ দাবি ও অশালীন মন্তব্যের অভিযোগ, মহেশখালীতে এসআই সালামতের বিরুদ্ধে ক্ষোভ।
মুহাম্মদ আবুবকর ছিদ্দিক
মহেশখালী (কক্সবাজার) প্রতিনিধি।
কক্সবাজারের মহেশখালী থানায় লিখিত এজাহার জমা দিতে গিয়ে এক ভুক্তভোগী নারীর কাছে ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী উপপরিদর্শক (এসআই) সালামতের বিরুদ্ধে।
একই ঘটনায় উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে ওই পুলিশ কর্মকর্তার বাকবিতণ্ডা এবং সাংবাদিকদের উদ্দেশে অশালীন ও আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগও উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট ২০২৬) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে মহেশখালী থানায় এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুস সুলতানকে অবহিত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এজাহার জমা দিতে গিয়ে টাকা দাবির অভিযোগ
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই নারী একটি লিখিত এজাহার নিয়ে মহেশখালী থানায় যান।
এজাহার গ্রহণের পর ডিউটি অফিসারের দায়িত্বে থাকা এসআই সালামত তাঁর কাছে টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে এসআই সালামত ক্ষুব্ধ হয়ে ওই নারীকে উদ্দেশ করে,দালাল বেশি নিয়ে আসছেন, টাকা বেশি করে দিন,এমন মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ সময় ভুক্তভোগীর সঙ্গে থাকা সাংবাদিক লিটন ওই বক্তব্যের প্রতিবাদ করে জানতে চান,“আপনি কাকে দালাল বলছেন।
পাশে থাকা সাংবাদিক সালাহ উদ্দিন রতনও বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানিয়ে বলেন,উনাকে দালাল বলছেন কেন? উনি তো একজন সাংবাদিক।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে অশালীন মন্তব্যের অভিযোগ
সাংবাদিক পরিচয় জানার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। একপর্যায়ে এসআই সালামত সাংবাদিকদের উদ্দেশে অশালীন ও আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার পর উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং থানার ভেতরেই পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে তাদের তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়।
বিভাগীয় ব্যবস্থা চাওয়ার ঘোষণা
ঘটনার বিষয়ে সাংবাদিক লিটন বলেন, একজন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যের কাছ থেকে এমন আচরণ কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়। তাঁর অভিযোগ, ঘুষের টাকা না দেওয়ায় ভুক্তভোগী ও উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে ওই কর্মকর্তা অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন।
তিনি বলেন,আমরা এ ঘটনার কোনো আপস চাই না। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হবে।
সাংবাদিকদের ক্ষোভ
ঘটনার সময় উপস্থিত মহেশখালী উপজেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মো. ইউনুস বলেন, “থানা সাধারণ মানুষের আইনি সেবা পাওয়ার জায়গা। সেখানে একজন ভুক্তভোগীর কাছে ঘুষ দাবির অভিযোগ এবং সাংবাদিকদের দালাল বলে অশালীন ভাষায় মন্তব্য করার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এদিকে ঘটনাটি মহেশখালীর স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি করেছে। সাংবাদিকদের দাবি, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইন ও বিভাগীয় বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
ওসির বক্তব্য
ঘটনার বিষয়ে মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুস সুলতানকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
তবে এসআই সালামতের বিরুদ্ধে ওঠা ঘুষ দাবির অভিযোগ ও সাংবাদিকদের উদ্দেশে অশালীন মন্তব্যের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
প্রতিবেদকের নোট: ঘুষ দাবি ও অশালীন মন্তব্যের অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনার ভিত্তিতে তুলে ধরা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা তদন্তসাপেক্ষ।