সাভারে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে ছাদ থেকে পড়ে মনোয়ারুল হোসেন বকশী (২৯) নামে এক ছাত্রদল নেতা নিহতের অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুরে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম ঘটনা সত্যতা নিশ্চিত করেন। এর আগে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ১২টার দিকে সাভারের বিপিএটিসি স্টাফ কোয়ার্টারের ৫ম তলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে ওই যুবকের মৃত্যু হয়।
নিহত মনোয়ারুল হোসেন বকশী সাভারের বাংলাদেশ লোক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের গার্ড জাফরের ছেলে। সে সাভার থানা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রংপুর জেলার পীরগঞ্জ থানা থেকে প্রেমের সম্পর্কের জেরে শাহারিয়ার কবির সৌমি নামে এক ছেলে মিম নামের অপর একটি মেয়েকে নিয়ে সাভারে মামার বাসায় পালিয়ে আসে। এ ঘটনায় মেয়ের পরিবার পীরগঞ্জ থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করলে বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে তারা (পীরগঞ্জ থানা পুলিশ) সাভার মডেল থানায় আসে। পরে পীরগঞ্জ থানা পুলিশসহ সাভার মডেল থানার পুলিশের একটি টিম নিয়ে মামা মনোয়ারুল হোসেন বকশীর বাসায় অভিযান চালায়। ভাগ্নে ও তার প্রেমিকা এর আগেই ওই বাসা থেকে চলে যায়। পরে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মামা মনোয়ারুল ছাদে পালাতে যান। এসময় পুলিশও তার পিছু নিয়ে ছাদে খুঁজতে যায়। এরপর হঠাৎ মনোয়ারুল হোসেন বকশী পাঁচতলা ভবনের ছাদ থেকে নিচে পড়ে যান।
প্রতিবেশী রাসেল মনি বলেন, রাত ১২টার দিকে পুলিশ ওই বাসায় অভিযান চালায়। তবে মনোয়ারুল হোসেন বকশী ভাগ্নে ও প্রেমিকা ওই বাসায় উপস্থিত ছিল না। তাদের না পেয়ে মনোয়ারুল হোসেন বকশীকে পুলিশ ধাওয়া করেন। পুলিশের ধাওয়া খেয়ে মনোয়ারুল ছাদ থেকে পড়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত পুলিশরাও ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এরপরে মনোয়ারুলকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসে। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঢাকা জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুজন শিকদার বলেন, রাতে পুলিশ তার ভাগ্নেকে খুঁজতে মনোয়ারুলের বাসায় যায়। এসময় মনেয়ারুল ছাদে গেলে পুলিশ তাকে লক্ষ্য করে ধাওয়া করে। এরপর মনোয়ারুল ছাদ থেকে পড়ে মারা যান।
পীরগঞ্জ থানা থেকে অভিযানে আসা উপপরিদর্শক (এসআই) কনক রঞ্জন বর্মনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মেয়েটির বাবা একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেছেন। পরে তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে সাভারে অবস্থান করছিল বলে নিশ্চিত হই। বৃহস্পতিবার রাতে ভিকটিমের বাবাকে নিয়ে সাভার মডেল থানায় যাই এবং ওই থানার পুলিশ নিয়ে বিপিএটিসি যাই। পরে বাসায় ঢুকে জাফর ও তার স্ত্রীকে পাই। এসময় বাসায় আর কেউ ছিলেন না। তার কয়েক মিনিটের ভেতরে একটি শব্দ শুনতে পাই। পরে নিচে গিয়ে দেখি একটি ছেলে বাসার নিচে পড়ে আছে। তারপরে আমরা চলে আসি বলে জানান তিনি।
ঘটনার সময় উপস্থিত সাভার মডেল থানায় উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল হাইয়ের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোনটি রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, পীরগঞ্জ থানা পুলিশ রাতে আসামি ধরার জন্য সাভারে এসেছিল। পরে আমাদের অবহিত করলে আমাদের থানা পুলিশের একটি টিমও সঙ্গে গিয়েছিল। কিন্তু পীরগঞ্জ থানা পুলিশ ভবনের ভিতরে আসামি ধরতে গেলে এক যুবক ছাদ থেকে পড়ে নিহত হয়। তবে সাভার মডেল থানা পুলিশ ভবনের নিচে অবস্থান করছিল। এ ঘটনায় পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।