রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২২-এর হেড মাঝির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও হয়রানির অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
বিশেষ প্রতিনিধি, টেকনাফ (কক্সবাজার):
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার উনচিপ্রাং রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২২-এর হেড মাঝি রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ক্ষমতার অপব্যবহার, সালিশের নামে অর্থ আদায় এবং সাধারণ রোহিঙ্গাদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ক্যাম্পের একাধিক বাসিন্দা।
অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে হেড মাঝি রফিকুল ইসলাম তার পদ ও প্রভাব ব্যবহার করে বিভিন্ন অজুহাতে ক্যাম্পবাসীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে আসছেন। কেউ তার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করলে কিংবা অভিযোগ করার চেষ্টা করলে রেশন কার্ড বন্ধ করে দেওয়ার ভয় দেখানো, প্রশাসনের কাছে নেতিবাচক প্রতিবেদন পাঠানো, বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা এবং নানাভাবে হয়রানির হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, নিরাপত্তাহীনতা ও প্রতিশোধের আশঙ্কায় অনেকেই প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে সাহস পান না। ফলে দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ থাকলেও সেগুলোর বেশিরভাগই আনুষ্ঠানিকভাবে সামনে আসেনি। এ কারণে একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য তদন্তের দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে বলে তারা জানান।
তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ক্যাম্প-২২-এর হেড মাঝি রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদ একপাক্ষিক এবং প্রকৃত ঘটনা সেখানে প্রতিফলিত হয়নি। তার দাবি, বিষয়টি মূলত দুই বছর আগের একটি পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে এবং ক্যাম্প প্রশাসনের উদ্যোগে একাধিকবার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এ বিষয়ে ক্যাম্পের ইনচার্জ (সিআইসি) জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর উভয় পক্ষকে নিয়ে একাধিকবার তদন্ত ও শুনানি করা হয়েছে। তদন্তে বিষয়টি পারিবারিক বিরোধ হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছে এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ক্যাম্পের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।