নোয়াখালী জেলার হাতিয়া, লক্ষ্মীপুরের রামগতি এবং সংলগ্ন উপকূলীয় চরাঞ্চল—বিশেষ করে ঢালচর ও চরঘাসিয়া সহ সর্বমোট ৬টি চর এলাকায় গত প্রায় ১৩ বছর ধরে এক আতঙ্কের পরিবেশ বিরাজ করছে। চিহ্নিত ডাকাত ফখরুল ও তার সহযোগী ডাকাত দলের ক্রমাগত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, সশস্ত্র চাঁদাবাজি, নারীনির্যাতন ও নিপীড়নের কারণে উক্ত অঞ্চলের প্রায় ১ লক্ষাধিক বাসিন্দা তীব্র নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।
অপরাধের প্রধান ধরণসমূহ:
সশস্ত্র সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি: জেলে, কৃষক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায়।
নারী নির্যাতন ও ধর্ষণ: চরাঞ্চলের দূরবর্তী বসতিগুলোতে ভয়ভীতি দেখিয়ে নারীদের ওপর নির্মম নির্যাতন ও যৌন নিপীড়ন।
অবৈধ অস্ত্রের মহড়া: চরাঞ্চলের গহিন ও সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করে এলাকার মানুষকে আতঙ্কে রাখা।
জোরপূর্বক জমি ও ভিটেমাটি দখল: স্থানীয়দের উচ্ছেদ করে নদী থেকে জেগে ওঠা চরের জমি দখল করা।
চিহ্নিত ডাকাত ও সন্ত্রাসী দলের সদস্যদের তালিকা:
ব্যনারে উল্লেখিত ফখরুল বাহিনীর মূল সদস্যদের নাম নিচে দেওয়া হলো:
১. ফখরুল (মূল ডাকাত সরদার)
২. বিটু
৩. পারভেজ
৪. ইব্রাহিম
৫. ইউসুফ
৬. আবুল হোসেন
৭. বেলাল
৮. আবুল হোসেন সরদার
৯. কাদের মোল্লা
১০. খলিল
১১. মোবারক
১২. মেরাজ
১৩. ফিরোজ
ভুক্তভোগীদের দাবি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান:
'ভুক্তভোগী হাতিয়া উপজেলাবাসী'-এর আয়োজনে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে প্রশাসন ও বাংলাদেশ সরকারের প্রতি নিম্নলিখিত জরুরি দাবিগুলো জানানো হয়েছে:
১. দ্রুত গ্রেফতার: চিহ্নিত ডাকাত ফখরুল এবং তার সকল সহযোগীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।
২. অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার: সন্ত্রাসীদের নিকট রক্ষিত সমস্ত অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা।
৩. নিরাপত্তা জোরদার: ঢালচর ও চরঘাসিয়াসহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি বা কোস্টগার্ডের টহল বৃদ্ধি করে ১ লক্ষাধিক বাসিন্দার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।