সুনামগঞ্জের ছাতক ও দোয়ারা বাজার থানার সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে তীব্র নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে বহু ঘরবাড়ি, ফসলি জমি এবং মসজিদ-মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
এই ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধের দাবিতে স্থানীয় গ্রামের সাধারণ মানুষের তীব্র ও দীর্ঘদিনের আন্দোলনের মুখে অবশেষে আজ সোমবার (৩ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি.) রাত থেকে ভোর পর্যন্ত এক সফল ও দুর্ধর্ষ যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে ছাতক নৌ পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন ও তার সঙ্গীয় ফোর্স এবং অভিযানে এলাকাবাসীর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় রহমতপুর নতুন বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২১ টি ড্রেজার মেশিন জব্দ এবং ৯ জন-কে আটক করা হয়েছে।
নৌ পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ছাতক ও দোয়ারাবাজার থানার সীমান্তবর্তী এলাকার কলাবাগান নামক স্থানে একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে আসছিল এর ফলে ওই এলাকায় নদী ভাঙন ভয়াবহ রূপ নেয় এবং স্থানীয় বাড়ি, মসজিদ ও মাদ্রাসা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ভাঙন রোধ ও ড্রেজার বন্ধের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র আন্দোলন ও ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছিলেন এলাকার ভুক্তভোগী গ্রামবাসী।
গ্রামবাসীর এই যৌক্তিক আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ সোমবার ছাতক নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন'র নেতৃত্বে পুলিশের সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীও পুলিশকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেন।
অভিযানকালে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগে ঘটনাস্থল থেকে ২১টি ড্রেজার মেশিন জব্দ করা হয়। একই সাথে নদী ভাঙনের জন্য দায়ী অবৈধ বালু উত্তোলনে জড়িত থাকার অপরাধে হাতেনাতে ৯ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন- দক্ষিণ ঢালারপাড় গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলীর পুত্র সাদেক মিয়া (২২), খাইরগাঁও গ্রামের মৃত সবুজ মিয়ার পুত্র মো. হোসেন মিয়া (৩৩), ইসলামপুর গ্রামের মৃত মমতাজ আলীর পুত্র জাহাঙ্গীর আলম (২৭), তৌফিক মিয়ার পুত্র সুমন মিয়া (৩১), মধ্য রাজনগর গ্রামের মৃত জিল্লু মিয়ার পুত্র তোফাজ্জল হোসেন (২৬), মোস্তফানগর গ্রামের ইন্তাজ মিয়ার পুত্র ফরিদ উদ্দিন (৩১), মৃত আলিম উদ্দিনের পুত্র রাজ্জাক মিয়া (৩১), গাঙ্গেরপাড় গ্রামের তারা মিয়ার পুত্র তারেকুল ইসলাম তারেক (২৭), টুকেরগাঁও গ্রামের মনির মিয়ার পুত্র মো. সেলিম মিয়া (৩০)।
আসামিদের বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকায় এবং কয়েকজন সিলেট জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা বলে জানাগেছে। বাংলা ড্রেজারগুলো ছাতক নৌ পুলিশ ফাঁড়িতে জব্দ রয়েছে।
অভিযানের বিষয়ে ছাতক নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন জানান, অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে এলাকার মসজিদ, মাদ্রাসা ও মানুষের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছিল গ্রামবাসীর আন্দোলনের পর আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছি।
নদী, পরিবেশ ও সরকারি সম্পদ রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে তাদের এই কঠোর ও সাহসী পদক্ষেপ এবং নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। অপরাধী যেই হোক অথবা শক্তিশালী হউক, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না ও আইনের উর্ধে কেউ নয়।
ছাতক নৌ পুলিশের এই সাহসী পদক্ষেপ এবং গ্রামবাসীর তীব্র আন্দোলনের মুখে অবৈধ ড্রেজার বন্ধ হওয়ার কারণে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান নৌ পুলিশ ফারির ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন।