কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি, রতন রায় | ৩ আগস্ট ২০২৬
কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস পূর্বনির্ধারিত ‘নালিয়ার দোলা’তে দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে আজ জেলা শহরের কেন্দ্রীয় স্থানে এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। স্থানীয় সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এই কর্মসূচিকে প্রাণবন্ত করে তোলেন।
বিকেল তিনটায় শুরু হওয়া এই মানববন্ধনে হাজারো মানুষ কালো ব্যাজ ধারণ করে এবং ‘শিক্ষা, শান্তি, পরিবেশ নালিয়া দোলা হবে বেশ’, ‘কথা দিল, কথা রাখ পূর্বের সিদ্ধান্ত বহাল রাখ’, ‘শিক্ষা নিয়ে টালবাহানা চলবে না, চলবে না’, ‘শিক্ষার জায়গায় রাজনীতি চলবে না, চলবে না’ স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত করে তোলে পুরো এলাকা।
বক্তারা বলেন, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম চালু হলেও আজও শিক্ষার্থীরা স্থায়ী ক্যাম্পাসের মুখ দেখেনি, যা জেলাবাসীর জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক। দীর্ঘ আগেই ‘নালিয়ার দোলা’ স্থানটি স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য নির্বাচিত এবং সব পর্যায়ে মীমাংসিত হওয়া সত্ত্বেও একটি স্বার্থান্বেষী মহল নতুন করে কালক্ষেপণ ও স্থান পরিবর্তনের ষড়যন্ত্র শুরু করেছে বলে অভিযোগ ওঠে।
বক্তারা প্রভাবশালী মহলের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ক্ষমতার জোরে পূর্বনির্ধারিত স্থান থেকে বিশ্ববিদ্যালয় সরানোর পাঁয়তারা চালানো কোনো অবস্থাতেই মেনে নেওয়া হবে না। যদি উন্নয়নের প্রকৃত ইচ্ছা থাকে, তবে নিজ এলাকায় মেডিকেল কলেজ, ইপিজেড বা অন্যান্য মেগা প্রকল্প নিয়ে আসুন; কুড়িগ্রামের মানুষ সব বিষয়ে পূর্ণ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। কিন্তু একটি মীমাংসিত বিষয় নিয়ে জল ঘোলা করে শিক্ষা ও সামগ্রিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
বক্তারা যা বলেন
মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে মেরিনা পারভীন অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “এটা আমাদের ন্যায্য অধিকার। কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এখানেই হতে হবে। যারা এই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে চায়, তারা জেনে রাখুক, এই শহরের প্রতিটি মা-বোন তাদের মোকাবিলায় রাস্তায় নামবে।”
মাসুদ রানা তাঁর বক্তব্যে বলেন, “স্থায়ী ক্যাম্পাস স্থাপনের কাজ অবিলম্বে বাস্তবায়ন করা হোক। জায়গা তো বহু আগেই সিলেক্ট করা হয়েছে, তাহলে কেন এই টালবাহানা? আমাদের একটাই ও স্পষ্ট দাবি—কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এখানেই প্রতিষ্ঠিত হোক। আর কোনো ছেলেখেলা নয়।”
আসিফ হাসান স্থানীয় উন্নয়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “কুড়িগ্রামের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র সফল হতে দেওয়া হবে না। পূর্বনির্ধারিত স্থানেই বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন করতে হবে। আমরা সবাই এক হয়ে এ দাবি আদায় করবই।”
অন্যান্য রাজনৈতিক নেতারা একবাক্যে ঘোষণা দেন, একটি মীমাংসিত বিষয় নিয়ে আর টানাহেঁচড়া না করে সবাই কুড়িগ্রামের উন্নয়নে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়বেন। তারা সরকার, জেলা প্রশাসক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো কুচক্রী মহলের কথায় কান না দিয়ে ‘নালিয়ার দোলা’তেই দ্রুত স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের কাজ শুরু করা হোক। অন্যথায় ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
প্রতিবেদন প্রণয়নের সময় মানববন্ধন শেষ হলেও নেতারা সাংবাদিকদের জানান, আগামী সপ্তাহে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে মন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়ে আইনি নোটিশ দেওয়ার কথাও ভাবা হচ্ছে। জেলাবাসী আজ একবাক্য জানিয়ে দিয়েছে—শিক্ষার এ স্থাপনা কুড়িগ্রামের অভিমান, তা যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে।