জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অবদান শীর্ষক 'সমপ্রীতির জুলাই ' আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
এম,এ,মানিক মিয়া
স্টাফ রিপোর্টার ।
ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দেশের হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অসামান্য অবদানকে স্মরণে রেখে এবং অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে ‘সম্প্রীতির জুলাই’ শীর্ষক এক বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।
“জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অবদান” শীর্ষক এই আলোচনা সভাটি আজ (০১) আগষ্ট ২০২৬ শনিবার বিকাল ৩ ঘটিকার সময় ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) অনুষ্ঠিত হয়।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সকল ধর্মের অংশীদারিত্ব:
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, গত জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান ছিল সার্বজনীন। দেশের স্বাধীনতাকামী সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এই আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীরা এবং সাধারণ জনগণ রক্ত দিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে সফল করে তুলেছেন। অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং সকল মানুষের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠাই এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল।
গুরুত্বপূর্ণ অতিথিবৃন্দ ও আলোচনা:
উক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক এবং বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ জনাব নাহিদ ইসলাম, এমপি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন:
ভিক্ষু সুনন্দপ্রিয় মহাথের: সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ বুদ্ধিস্ট ফেডারেশন।
ফাদার এলবার্ট টমাস রোজারিও: পরিচালক, সেন্ট মেরিস ক্যাথেড্রাল ও আর্চবিশপ হাউস।
সারোয়ার তুষার: সদস্য, রাজনৈতিক পর্ষদ ও যুগ্ম আহ্বায়ক, এনসিপি।
আলী আহসান জুনায়েদ: সদস্য, রাজনৈতিক পর্ষদ এবং যুগ্ম আহ্বায়ক, এনসিপি।
রুপাইয়া শ্রেষ্ঠা তঞ্চঙ্গ্যা: সাংবাদিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জুলাই আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী।
রতন চন্দ্র তরুয়া: শহীদ হৃদয় তরুয়ার পিতা।
অনুষ্ঠান পরিচালনা ও সভাপতিত্ব:
অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন এনসিপি-র কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব প্রীতম দাশ। যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি প্রলয় কুমার পাল এবং জাতীয় ছাত্রশক্তির ধর্ম ও সম্প্রীতি বিষয়ক সম্পাদক জয় বিশ্বাস।
সমাবেশটির আমন্ত্রণে ছিলেন বাংলাদেশ খ্রিস্টান এসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব জুয়েল এন্থনি চৌধুরী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি-র কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক সাগর বড়ুয়া।
সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার:
আলোচনা সভায় উপস্থিত সকল অতিথিবৃন্দ ও আমন্ত্রিত প্রতিনিধিরা একসূত্রে বলেন, বাংলাদেশ সকল ধর্ম ও মতের মানুষের। গণঅভ্যুত্থানের এই অর্জনকে ধরে রেখে একটি বৈষম্যহীন, সম্প্রীতিময় এবং অসাম্প্রদায়িক নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলাই আজকের দিনের প্রধান অঙ্গীকার।