সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় সরকারি, বেসরকারি, সাধারণ, মাদ্রাসা ও ইংরেজি মাধ্যম মিলিয়ে বর্তমানে ৩৯৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। উপজেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভাজুড়ে এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে।
উপজেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ১৮৫টি, বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৫৮টি, ইংরেজি ভার্সন বিদ্যালয় ২টি, কওমী মাদ্রাসা ৫০টি এবং স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসা ২৬টি।
মাধ্যমিক পর্যায়ে রয়েছে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ১টি, সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ১টি, এমপিওভুক্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৩৭টি এবং এমপিওবিহীন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৬টি।
এ ছাড়া উচ্চমাধ্যমিক ও মাদ্রাসা পর্যায়ে রয়েছে সরকারি কলেজ ১টি, বেসরকারি কলেজ ৩টি, কামিল মাদ্রাসা ২টি, ফাজিল মাদ্রাসা ১টি, আলিম মাদ্রাসা ৭টি, দাখিল মাদ্রাসা ১২টি, এমপিওবিহীন দাখিল মাদ্রাসা ৫টি এবং একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল (ব্রিজ একাডেমি)।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রম, পাঠদান, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা তদারকির দায়িত্ব পালন করছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিয়মিত এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আকস্মিক পরিদর্শন ও মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
শিক্ষা-সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি টিফিন কর্মসূচির কারণে অনেক শিক্ষার্থীর বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বেড়েছে। তবে এ কর্মসূচির আওতায় সরবরাহ করা খাবারের মান ও মেয়াদ নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা। তাদের মতে, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তদারকি এবং সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্টদের অভিমত, বিপুল সংখ্যক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকলেও শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, শিক্ষক সংকট নিরসন, আধুনিক শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সমান শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা এখন গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।
বর্তমানে ছাতক উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের দায়িত্বে রয়েছেন মোহাম্মদ শাহজাহান আহমদ। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন মো. আনিসুর রহমান।
এদিকে স্থানীয় সূত্র জানায়, সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারাবাজার) আসনের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলনের উদ্যোগে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিক্ষা কার্যক্রমে বিভিন্ন সময়ে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট প্রকল্প, বরাদ্দ বা সরকারি তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।