তবে অনেক চাকরিপ্রার্থী ইংরেজিতে কথা বলতে গিয়ে সংকোচে পড়েন। কেউ ভুল বলার ভয়ে চুপ থাকেন, আবার কেউ জানার পরও আত্মবিশ্বাসের অভাবে নিজের বক্তব্য ঠিকভাবে প্রকাশ করতে পারেন না। অথচ নিয়মিত অনুশীলন ও কিছু সহজ অভ্যাস গড়ে তুললে এই ভয় অনেকটাই দূর করা সম্ভব।
ইংরেজিতে কথা বলতে না পারার প্রধান কারণ অনেক সময় ভাষাজ্ঞানের অভাব নয়, বরং আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি। অনেকেই মনে করেন, প্রতিটি বাক্য ব্যাকরণগতভাবে নিখুঁত না হলে কথা বলা যাবে না। কিন্তু বাস্তবে কর্মক্ষেত্রে নিখুঁত ব্যাকরণের চেয়ে নিজের বক্তব্য পরিষ্কারভাবে তুলে ধরতে পারাটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিদিন মাত্র ১০–১৫ মিনিট ইংরেজিতে নিজের দৈনন্দিন কাজ, পরিকল্পনা বা যেকোনো বিষয় নিয়ে কথা বলার চেষ্টা করুন। নিয়মিত অনুশীলনে শব্দভান্ডার বাড়বে এবং কথা বলার জড়তাও ধীরে ধীরে কমে যাবে।
মোবাইল ফোনে নিজের কথা রেকর্ড করে শুনুন। এতে উচ্চারণ, অপ্রয়োজনীয় বিরতি বা বারবার হওয়া ভুলগুলো সহজেই ধরা পড়বে। চাইলে আয়নার সামনে দাঁড়িয়েও অনুশীলন করতে পারেন।
বেশির ভাগ চাকরির সাক্ষাৎকারে কিছু প্রশ্ন প্রায়ই করা হয়। যেমন—
Tell me about yourself.
Why do you want to work here?
What are your strengths and weaknesses?
Where do you see yourself in five years?
এসব প্রশ্নের উত্তর আগে থেকেই ইংরেজিতে প্রস্তুত করে কয়েকবার অনুশীলন করলে সাক্ষাৎকারে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাস নিয়ে উত্তর দিতে পারবেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদ, পডকাস্ট, শিক্ষামূলক ভিডিও বা পেশাদার উপস্থাপনা নিয়মিত শুনুন। এতে নতুন শব্দ, বাক্যগঠন ও উচ্চারণ সম্পর্কে ধারণা তৈরি হবে। এরপর সেখান থেকে শেখা সহজ বাক্যগুলো নিজের কথোপকথনে ব্যবহার করার চেষ্টা করুন।
শুধু নতুন শব্দ মুখস্থ করলে লাভ কম। বরং প্রতিদিন শেখা শব্দ দিয়ে ছোট ছোট বাক্য তৈরি করুন এবং বাস্তব জীবনে ব্যবহার করুন। অফিস, সাক্ষাৎকার বা দৈনন্দিন কথোপকথনে ব্যবহৃত শব্দগুলোর চর্চা বেশি কার্যকর।
যেকোনো ভাষা শেখার ক্ষেত্রে ভুল হওয়া স্বাভাবিক। ভুলকে ব্যর্থতা নয়, শেখার অংশ হিসেবে গ্রহণ করুন। নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে আত্মবিশ্বাস যেমন বাড়বে, তেমনি ভুলও ধীরে ধীরে কমে আসবে।
বন্ধুদের সঙ্গে ইংরেজিতে কথা বলা, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপস্থাপনা, অনলাইন মিটিং বা স্পিকিং ক্লাবে অংশ নেওয়া ইংরেজি বলার দক্ষতা বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
নিয়োগদাতারা সাধারণত দেখতে চান, একজন প্রার্থী নিজের ভাবনা পরিষ্কারভাবে প্রকাশ করতে পারেন কি না, প্রশ্ন বুঝে যথাযথ উত্তর দিতে পারেন কি না এবং পেশাদারভাবে যোগাযোগ করতে সক্ষম কি না। তাই জটিল শব্দ ব্যবহার করার চেয়ে সহজ, স্পষ্ট ও আত্মবিশ্বাসী ভাষায় কথা বলাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
চাকরির বাজারে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ইংরেজিতে কথা বলতে পারা একটি মূল্যবান দক্ষতা। তবে এর জন্য নিখুঁত ইংরেজি জানা বাধ্যতামূলক নয়। নিয়মিত অনুশীলন, ভুল থেকে শেখার মানসিকতা এবং বাস্তব পরিস্থিতিতে ভাষাটি ব্যবহার করার অভ্যাসই আপনাকে ধীরে ধীরে সাবলীল ও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে।