রাজশাহী মহানগরীতে কথিত ভুয়া কবিরাজির নামে প্রতারণার তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে এক সাংবাদিকের ওপর হামলা এবং পরবর্তীতে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চন্দ্রিমা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক মো. তানজিলুল ইসলাম (লাইক)।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কয়েকজন সাংবাদিক জানতে পারেন, রাজশাহীর শিরোইল কলোনি এলাকার বাসিন্দা মুরাদ হোসেন দীর্ঘদিন ধরে ঝাড়ফুঁক, পানি পড়া ও অলৌকিক চিকিৎসার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, চিকিৎসা-সংক্রান্ত কোনো স্বীকৃত যোগ্যতা বা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়াই তিনি এ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। স্থানীয়ভাবে ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণের পরিচয় ব্যবহার করে তিনি কথিত কবিরাজির নামে প্রতারণা করছেন বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, অভিযুক্ত মুরাদ হোসেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের একজন ভ্যানচালক। পাশাপাশি তিনি ব্যক্তিগতভাবে কথিত কবিরাজির কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, এসব তথ্যের সত্যতা যাচাই ও সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে গত ২১ জুলাই রাত প্রায় ৮টার দিকে ঘটনাস্থলে যান কয়েকজন সাংবাদিক। পরদিন ২২ জুলাই সন্ধ্যা প্রায় ৮টার দিকে নগরীর আল-আরাফাহ একাডেমির সামনে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, মুরাদ হোসেন, তার বাবা নিজাম উদ্দিন এবং তাদের সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালান। এ সময় স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে সাংবাদিক তানজিলুল ইসলাম প্রাণে রক্ষা পান।
ঘটনার পর চন্দ্রিমা থানায় দায়ের করা অভিযোগে শিরোইল কলোনির হাজরাপুকুর এলাকার বাসিন্দা মুরাদ হোসেন ও তার বাবা নিজাম উদ্দিনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, হামলার পর থেকে অভিযুক্তরা সাংবাদিক তানজিলুল ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছেন। এতে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক তানজিলুল ইসলাম বলেন, "সংবাদ সংগ্রহ করা একজন সাংবাদিকের পেশাগত দায়িত্ব। প্রতারণার অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছি। এখন আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।"
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।