পরিবারের ভালোবাসা, ত্যাগ ও অনুপ্রেরণাই একজন মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি। সেই শক্তিকে পাথেয় করেই সাহিত্যচর্চা, শিক্ষা ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তুলছেন তরুণ কবি কাইস বিন আহমদ।
কাইস বিন আহমদের ভাষ্য, তাঁর শিক্ষাজীবনের প্রায় পুরোটা জুড়েই সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছেন তাঁর মা মোসলেম খাতুন। শৈশবে হাতে-কলমে পড়ানো থেকে শুরু করে আজও প্রতিদিন মোবাইল ফোনে উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা দিয়ে তিনি সন্তানের পথচলায় সাহস জুগিয়ে চলেছেন। অন্যদিকে, তাঁর বাবা মো. রাজু আহমদের সাহস, পরামর্শ ও জীবনবোধ তাঁকে প্রতিকূল সময়েও দৃঢ় থাকতে শিখিয়েছে। জীবনের প্রতিটি সাফল্য-ব্যর্থতা, সংকট ও সিদ্ধান্তের মুহূর্তে বাবাকে তিনি বটবৃক্ষের মতো পাশে পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেন। এছাড়া তাঁর ভাইও সবসময় ছায়াসঙ্গীর মতো পাশে থেকেছেন। বর্তমানে পড়াশোনার প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে থাকায় পারিবারিক অনেক দায়িত্ব ভাই-ই সামলে নিচ্ছেন। কাইস মনে করেন, তাঁর জীবনগল্পের প্রতিটি অধ্যায় এই তিনজনের ভালোবাসা ও ত্যাগের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে।
২০০৬ সালের ৩ জানুয়ারি সাতক্ষীরা জেলার দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কাইস বিন আহমদ। তাঁর ডাকনাম হৃদয়। তিনি ২০২১ সালে পারুলিয়া এস.এস. মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০২৩ সালে সরকারি খানবাহাদুর আহসানউল্লাহ কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউবিটি)-এর কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
সাহিত্যচর্চার প্রতি তাঁর আগ্রহের সূচনা ষষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যয়নকালেই। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এবং বাংলা একাডেমির উপ-পরিচালক ড. সাহেদ মন্তাজের সাহিত্যকর্ম ও অনুপ্রেরণা তাঁর লেখালেখির পথচলাকে সমৃদ্ধ করেছে। ২০২৫ সালের অমর একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘প্রণয় আলাপন’। এরপর বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকা এবং সাময়িকীতে তাঁর কবিতা ও সাহিত্যকর্ম প্রকাশিত হয়েছে।
শিক্ষা ও সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও সমানভাবে সক্রিয় কাইস বিন আহমদ। তিনি প্রথম আলো মিরপুর বন্ধুসভার বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং ২০২৫ সালে বইমেলা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি বেসিস স্টুডেন্টস ফোরাম অব বিইউবিটি চ্যাপ্টার-এর ২০২৬ সালের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
পরিবারের মূল্যবোধ, সাহিত্যপ্রেম, শিক্ষার প্রতি নিষ্ঠা এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণ—এই চারটি ভিত্তিকে সামনে রেখে কাইস বিন আহমদ ভবিষ্যতেও দেশ, সমাজ ও বাংলা সাহিত্যে ইতিবাচক অবদান রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।