রাজধানীর উত্তরা ইউনিভার্সিটিতে আজ শিক্ষার্থীদের একাংশ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন। আন্দোলনকারীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস অব স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্সের সহকারী কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থী নীলা শিকদার এবং শিক্ষার্থী জেরিন জুলাই মাসের ঘটনা নিয়ে কটাক্ষমূলক মন্তব্য করেছেন এবং জুলাইয়ে নিহতদের বিষয়ে আপত্তিকর অবস্থান নিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে।
আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবির মধ্যে ছিল নীলা শিকদার ও জেরিনের ছাত্রত্ব বাতিল, ভবিষ্যতে তাঁরা যেন কোনোভাবে বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রতিনিধিত্ব না করতে পারেন তা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি জুলাইকে কটাক্ষ ও জুলাইয়ের শহীদদের হত্যাকাণ্ডকে ন্যায্যতা দেওয়ার সঙ্গে জড়িত শিক্ষার্থীদের কমপক্ষে ১ সেমিস্টার ব্যান করতে হবে। এটাও নিশ্চিত করতে হবে যেন ভবিষ্যতে তারা কোনভাবেই নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের জন্য ক্যাম্পাসে কার্যক্রম চালাতে না পারে। এ ছাড়া জুলাই মাসব্যাপী কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও জুলাইয়ে আহতদের যথাযথ সম্মাননা প্রদানের দাবিও তোলেন তাঁরা।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নীলা শিকদারকে ইতিমধ্যে তাঁর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। প্রক্টোরিয়াল টিমের বরাত দিয়ে আন্দোলনকারীরা জানান, নীলা শিকদার ও জেরিনের ছাত্রত্ব বাতিলের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে এ বিষয়ে কোনো লিখিত বা আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি এখনো প্রকাশিত হয়নি।
৫৮ হাজারের সদস্যবিশিষ্ট "দা ড্রিমার্স-উত্তরা ইউনিভার্সিটি" স্টুডেন্ট কমিউনিটি ফেসবুক গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে রয়েছে এ প্রশ্নের জবাবে প্রশাসন জানায়, বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল পেজ থেকে পরে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ওই গ্রুপ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে বিনা কারণে ব্যান হওয়া সংক্রান্ত অভিযোগগুলোও পর্যালোচনার আশ্বাস দেওয়া হয়।
প্রশাসন আরও জানায়, উপযুক্ত প্রমাণের ভিত্তিতে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে সম্পৃক্ততা বা প্রচারণার অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে স্থায়ী বহিষ্কারসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযুক্ত নীলা শিকদার বা জেরিনের কোনো পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের লিখিত বিবৃতি বা তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।