ঘি বহু যুগ ধরে আমাদের রান্নার একটি অপরিহার্য উপাদান। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কোলেস্টেরল বৃদ্ধি ও হৃদরোগের ঝুঁকির সঙ্গে ঘির সম্পর্ক নিয়ে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। ফলে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—ঘি কি পুরোপুরি বাদ দেওয়া উচিত?
বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তর হলো না। পরিমিত পরিমাণে ঘি খেলে তা সাধারণত ক্ষতিকর নয়। অন্যান্য খাবারের মতোই এর প্রভাব নির্ভর করে আপনি কতটা ঘি খাচ্ছেন, আপনার সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস কেমন এবং জীবনযাপন কতটা স্বাস্থ্যকর তার ওপর।
ঘি হলো এক ধরনের পরিশোধিত মাখন (Clarified Butter)। মাখনকে ধীরে ধীরে গরম করে এর জলীয় অংশ বাষ্পীভূত করা হয় এবং দুধের কঠিন অংশ আলাদা হয়ে গেলে যে সোনালি রঙের চর্বি অবশিষ্ট থাকে, সেটিই ঘি।
ঘিতে ভিটামিন এ, ডি, ই ও কে-এর মতো চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন থাকে। তবে এতে ক্যালোরি ও স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণও বেশি, তাই এটি খাওয়ার ক্ষেত্রে পরিমিতি বজায় রাখা জরুরি।
গবেষণায় দেখা গেছে, ঘিতে স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ বেশি। অতিরিক্ত ঘি খেলে কিছু মানুষের শরীরে এলডিএল (খারাপ) কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে।
তবে পুষ্টিবিদদের মতে, দৈনিক স্যাচুরেটেড ফ্যাট গ্রহণের পরিমাণ সুপারিশকৃত সীমার মধ্যে থাকলে অল্প পরিমাণ ঘি একটি সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে।
অর্থাৎ, ঘি পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং পরিমিত পরিমাণে খাওয়া এবং খাদ্যতালিকায় স্বাস্থ্যকর অসম্পৃক্ত (Unsaturated) চর্বির উৎস—যেমন অলিভ অয়েল, বাদাম, বীজ ও মাছ—বেশি রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
স্যাচুরেটেড ফ্যাট কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এলডিএল কোলেস্টেরল বাড়িয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি করতে পারে। দ্য আমেরিকান জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, মাখন, ঘি, ক্রিম, চর্বিযুক্ত মাংস এবং পূর্ণ-ফ্যাটযুক্ত দুগ্ধজাত খাবার স্যাচুরেটেড ফ্যাটের প্রধান উৎস।
তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা খাদ্যতালিকা থেকে সব ধরনের চর্বি বাদ দেওয়ার পরামর্শ দেন না। কারণ শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য স্বাস্থ্যকর চর্বি অপরিহার্য। তাই স্যাচুরেটেড ফ্যাটের একটি অংশের পরিবর্তে আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট গ্রহণ করলে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে।
ঘি খাওয়া পুরোপুরি বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। তবে এটি পরিমিত পরিমাণে খেতে হবে এবং স্বাস্থ্যকর, সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। যাদের উচ্চ কোলেস্টেরল, হৃদরোগ বা অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যসমস্যা রয়েছে, তারা নিয়মিত ঘি খাওয়ার আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিলে ভালো।
প্রয়োজনে এটিকে আরও সংবাদধর্মী (পত্রিকার ফিচার স্টাইলে) বা এসইও-ফ্রেন্ডলি সংস্করণেও সাজিয়ে দিতে পারি।