পরিবারের সম্মতিতে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন সুরাইয়া ও মুমিনুন। বিয়ের মাত্র ৫ মাস পার হতেই যৌতুকের নির্মম বলি হতে হলো সুরাইয়া নামের এক গৃহবধূকে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত স্বামী মুমিনুনকে ইতিমধ্যে আটক করা হয়েছে।
আজ জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সুরাইয়ার পরিবার মানববন্ধন পালনের সময় জানায় যে, ২০২৩ সালের ৭ ডিসেম্বর দুই পরিবারের সম্মতিতে সুরাইয়া ও মুমিনুনের বিয়ে সম্পন্ন হয়। ভালোবাসার এই বিয়েতে দেনমোহর বা কাবিন নির্ধারণ করা হয়েছিল মাত্র ১০ হাজার টাকা। বিয়ের পর শুরুর দিনগুলো স্বাভাবিক কাটলেও অল্প কিছুদিনের মধ্যেই মুমিনুনের আসল রূপ প্রকাশ পেতে শুরু করে।
অভিযোগ উঠেছে, মাত্র ১০ হাজার টাকা দেনমোহরের বিনিময়ে বিয়ে করলেও বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই মুমিনুনের পরিবার থেকে ঘরভর্তি আসবাবপত্রের দাবি করা হয়। সুরাইয়ার পরিবার সেই দাবি পূরণ করতে না পারায় তার ওপর নেমে আসে অমানবিক নির্যাতন।
সুরাইয়ার বড় বোনের ভাষ্যমতে:
"ছেলেটি অত্যন্ত উগ্র মেজাজের ছিল। সে প্রায়ই সুরাইয়াকে তার শারীরিক গঠন নিয়ে কটূক্তি ও মানসিক নির্যাতন করত। সামান্য আসবাবপত্রের জন্য তারা আমার বোনটাকে শেষ করে দিল।"
বিয়ের মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় সুরাইয়ার রহস্যজনক ও নির্মম মৃত্যু ঘটে। সুরাইয়ার নিথর দেহ উদ্ধারের পর তার পরিবারের পক্ষ থেকে এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সুরাইয়ার বড় বোনের আহাজারি এবং অভিযুক্ত স্বামী মুমিনুনের ছবি ছড়িয়ে পড়লে অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি ওঠে।
পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং অভিযুক্ত স্বামী মুমিনুন বর্তমানে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে রয়েছে। একটি সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে সুরাইয়ার এভাবে অকালে চলে যাওয়া আবারও সমাজের যৌতুক প্রথার নির্মম বাস্তবতাকে সামনে এনে দাঁড় করিয়েছে।