দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র দুই সপ্তাহের মাথায় বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলকে ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায়ে নিয়ে গেছেন কোচ টমাস ডুলি। গত ৫ জুন ইউরোপের দেশ সান মারিনোর মাটিতে ২-১ গোলে জিতে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো কোনো ইউরোপীয় দেশের বিপক্ষে জয় তুলে নেয় আর জার্মান-মার্কিন এই কোচও নিজের অভিষেক ম্যাচেই জয়ের স্বাদ পান।
গত ২২ মে বাফুফে দুই বছরের চুক্তিতে টমাস ডুলিকে প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয়। এর আগে ২৭০ জনের বেশি আবেদনকারীর মধ্য থেকে দীর্ঘ বাছাই প্রক্রিয়া শেষে ওয়েলসের সাবেক কোচ ক্রিস কোলম্যানের সঙ্গে আলোচনা ভেস্তে গেলে এগিয়ে আসেন ডুলি। যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও ১৯৯৪, ১৯৯৮ বিশ্বকাপ খেলা এই কোচের আগের অ্যাসাইনমেন্ট ছিল ফিলিপাইন ও গায়ানা জাতীয় দল, যেখানে তিনি উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছেন।
তবে শুরুতেই কিছুটা অস্বস্তির মুখে পড়েছিলেন ডুলি। দায়িত্ব নেওয়ার পরদিনই যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিমন্ত্রী তাঁকে অনেকটা ‘পরীক্ষামূলকভাবে’ নেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করলে বাফুফের অভ্যন্তরে অস্বস্তি তৈরি হয়। সান মারিনো ম্যাচের ফলাফলের ওপরই তাঁর ভবিষ্যৎ অনেকটা নির্ভর করছিল বলে সে সময় জানা যায়।
২৪ মে থেকে প্রস্তুতি ক্যাম্প শুরুর পর ৫ জুন সেরাভাল্লে স্টেডিয়ামে মাঠে নামে বাংলাদেশ। ম্যাচের ১৯ মিনিটে সেট-পিস থেকে দলকে এগিয়ে নেন ডিফেন্ডার তপু বর্মণ। ৩১ মিনিটে জিয়াকোপেত্তির গোলে সমতা ফেরায় স্বাগতিকরা, তবে বিরতির পর ছয়টি পরিবর্তন এনে খেলার নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনেন ডুলি। শেষ পর্যন্ত তপু বর্মণের জোড়া গোলের দ্বিতীয়টিতে ২-১ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। পুরো ম্যাচে ৫৪ শতাংশ বলের দখল রেখে ২৪৪টি সফল পাস খেলে দলটি।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ডুলি বলেন, ফল নিয়ে তিনি "অত্যন্ত খুশি", কারণ ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে তুলনামূলক পিছিয়ে থাকা দল হয়েও ইউরোপের মাটিতে তারা ভালো ফুটবল খেলেছে। একই সঙ্গে ফার্স্ট টাচ ও ফিনিশিংয়ে দুর্বলতার কথাও স্বীকার করেছেন তিনি, যা নিয়ে অনুশীলনে বাড়তি জোর দেওয়ার কথা জানান।
সান মারিনোর মাঠে খেলা হলেও গ্যালারির বড় অংশ জুড়ে ছিল লাল-সবুজ সমর্থন। ইউরোপের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় চার হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি খেলা দেখতে আসেন, যা দেখে মুগ্ধ ডুলি ভবিষ্যতে মহাদেশটিতে আরও ম্যাচ আয়োজনের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
দায়িত্ব নেওয়ার সময় ডুলি জানিয়েছিলেন, বর্তমানে ১৮০-এর আশপাশে থাকা ফিফা র্যাঙ্কিংকে দুই বছরের মধ্যে ১৫০ থেকে ১৬০-এর মধ্যে নিয়ে আসাই তাঁর লক্ষ্য। বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে খেলার দর্শন গড়ে তোলার কথাও বলেছেন তিনি। হামজা চৌধুরী, জামাল ভূঁইয়া, শমিত সোমের পাশাপাশি তিন বছর পর জাতীয় দলে ফেরা গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকো এবং তরুণ জায়ান আহমেদ, ফাহামিদুল ইসলামদের নিয়ে গড়া দল দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় এগোতে চান তিনি।
সান মারিনো জয়ের পর ডুলির অধীনে বাংলাদেশ ফুটবলের পরবর্তী ধাপ কেমন হয়, সেদিকেই এখন নজর দেশের ফুটবলপ্রেমীদের।