মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের গণিত শিক্ষণ দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের গণিতে শিখনফল বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘খান একাডেমি বাংলাদেশ’ কার্যক্রম বাস্তবায়নের অনুমোদন দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। সাজেদা ফাউন্ডেশনের আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতায় পরিচালিত এ কার্যক্রমের মেয়াদ ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
বৃহষ্পতিবার (৯ জুলাই) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) গবেষণা কর্মকর্তা জিসান আহমেদ সাক্ষরিত এক অনুমোদনপত্রে এ তথ্য জানানো হয়।
মাউশির জারি করা অনুমোদনপত্রে বলা হয়েছে, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, নরসিংদী, চাঁদপুর, কুমিল্লা ও পঞ্চগড়—এই সাত জেলার মোট ১০০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এক বছর মেয়াদি এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। এ বিষয়ে সাজেদা ফাউন্ডেশনের ১ এপ্রিল ও ৫ মে ২০২৬ তারিখের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অধিদপ্তর সম্মতি দিয়েছে।
অনুমোদিত কার্যক্রমের আওতায় গণিত শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষণ দক্ষতা বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের জন্য ‘খান একাডেমি বাংলাদেশ’ প্ল্যাটফর্মের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা, প্রয়োজনীয় ডিভাইস স্থাপন ও কারিগরি সহায়তা প্রদান, শিক্ষার্থীদের জন্য শিখন সহায়তা ও কর্মশালা আয়োজন এবং নিয়মিত মাসিক মনিটরিং ও অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হবে।
মাউশি এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে বেশ কয়েকটি শর্তও দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—জাতীয় ও ধর্মীয় চেতনা পরিপন্থী কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না, জেলা শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের সহায়তায় বিদ্যালয় নির্বাচন করতে হবে এবং সেই তালিকা মাউশির চূড়ান্ত অনুমোদন নিতে হবে। এছাড়া শ্রেণি কার্যক্রমে কোনো বিঘ্ন সৃষ্টি করা যাবে না এবং অনুমোদিত কার্যক্রমে কোনো পরিবর্তন আনতে হলে অধিদপ্তরের পূর্বানুমতি নিতে হবে।
এ ছাড়া কার্যক্রমের আওতা বা মেয়াদ পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও মাউশির অনুমোদন বাধ্যতামূলক। উপজেলা, জেলা, আঞ্চলিক কার্যালয় ও মাউশির কর্মকর্তারা নিয়মিত এ কার্যক্রম তদারকি করবেন। বাস্তবায়নকারী সংস্থাকে তদারকিতে সার্বিক সহযোগিতা ও ব্যয় বহন করতে হবে। পাশাপাশি ত্রৈমাসিক ও বার্ষিক অগ্রগতি প্রতিবেদন মাউশিতে জমা দিতে হবে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, প্রয়োজন হলে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর যে কোনো সময় এ কার্যক্রম বাতিল করতে পারবে। পাশাপাশি সরকার নির্ধারিত সব সুরক্ষা বিধিমালা ও স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।