রাজধানীর উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজ-এ শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে করা মামলায় সাবেক মন্ত্রী ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি-এর সভাপতি রাশেদ খান মেনন-কে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (৯ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক শাহজাহান কবির তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পর এ আদেশ দেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয় বলে জানিয়েছেন দুদকের প্রসিকিউটর দেলোয়ার জাহান রুমী।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক ফেরদৌস রহমান গত ১ জুলাই মেননকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য বুধবার দিন ধার্য করেন। এদিন সকালে তাকে আদালতে হাজির করা হলে শুনানি শেষে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেওয়া হয়।
ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট রাশেদ খান মেননকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি প্রথমে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এবং পরে সমাজকল্যাণমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
এদিকে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দমনের সময় সংঘটিত একাধিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা বিভিন্ন মামলায়ও তাকে আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-এ তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলার বিচার চলছে।
দুদকের মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, পূর্বপরিচিত ১৩ জন প্রার্থীকে অনিয়ম ও প্রতারণার মাধ্যমে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ ঘটনায় রাশেদ খান মেননসহ মোট ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, বিধি অনুযায়ী ক্ষমতা না থাকা সত্ত্বেও বিশেষ গভর্নিং কমিটির মাধ্যমে অবৈধভাবে নিয়োগ বোর্ড গঠন করা হয়। বোর্ডে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) বা তার প্রতিনিধি এবং বিষয়ভিত্তিক শিক্ষককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
এ ছাড়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে এনটিআরসিএ সনদ বাধ্যতামূলক থাকলেও তা ছাড়া প্রার্থীদের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। লিখিত পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া এক প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে না দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এমনকি নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই নিয়োগপত্র ও যোগদানপত্র ইস্যু করা হয়েছিল বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন স্কুলটির সাবেক অধ্যক্ষ ও গভর্নিং বডির সাবেক সদস্য সচিব অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল আলমগীর হোসেন, গভর্নিং বডির কয়েকজন সাবেক সদস্য এবং নিয়োগপ্রাপ্ত একাধিক শিক্ষক।