কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে নদীপথে ইয়াবা পাচারের একটি বড় চেষ্টা ব্যর্থ করে ৬৪ বিজিবির হোয়াইক্যং বিওপির বিশেষ টহল দল মালিকবিহীন ৬০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে। তবে বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে ইয়াবা বহনকারী চোরাকারবারী নাফ নদীতে ঝাঁপ দিয়ে সাঁতরে মিয়ানমারে পালিয়ে যায়।
শুক্রবার (৩ জুলাই) উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)-এর অধিনায়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
বিজিবি জানায়, শুক্রবার ভোর আনুমানিক ৪টা ৩০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ হোয়াইক্যং বিওপির বিশেষ টহল দল সীমান্ত পিলার বিআরএম-১৮ সংলগ্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় বিওপি থেকে প্রায় ১ দশমিক ২ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে এবং কেরেঙ্গাঘোনা পোস্ট-২ থেকে ১০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কেরেঙ্গাঘোনা-০২ পোস্টের কাছে মিয়ানমার থেকে এক ব্যক্তি হাতে একটি পোটলা নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করে।
টহলরত বিজিবি সদস্যরা ওই ব্যক্তিকে থামার সংকেত দিলে তিনি হাতে থাকা কালো কাপড়ে মোড়ানো পোটলাটি ফেলে নাফ নদীতে ঝাঁপ দেন এবং সাঁতরে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে পালিয়ে যান।
পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে কালো কাপড়ে মোড়ানো পলিথিনের ভেতরে থাকা খাকি রঙের একটি পোটলা উদ্ধার করা হয়। পোটলাটি খুলে নীল রঙের বায়ুরোধী ছয়টি প্যাকেটে রাখা আনুমানিক ৬০ হাজার পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। পরবর্তীতে আশপাশের এলাকায় আরও তল্লাশি চালানো হলেও অন্য কোনো অবৈধ মালামাল উদ্ধার হয়নি।
উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক বলেন, “মাদক চোরাকারবারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। বিজিবি শুধু সীমান্ত পাহারায় নয়, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধেও সব সময় কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, কক্সবাজার রিজিয়নের রামু সেক্টরের অধীনস্থ উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সীমান্ত সুরক্ষা, মাদক দমন এবং অবৈধ চোরাচালান প্রতিরোধে ধারাবাহিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করে আসছে।