কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের চরগোরকমন্ডল এলাকায় ধরলা নদীর তীব্র স্রোতে একটি গুরুত্বপূর্ণ কালভার্ট ধসে পড়েছে। এতে প্রায় ৫০ ফুট সড়ক নদীগর্ভে বিলীন হয়ে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। গত চার দিন ধরে তিনটি আবাসনের বাসিন্দাসহ অন্তত পাঁচ শতাধিক পরিবারের যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন রয়েছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষার্থী, কৃষক, রোগী ও কর্মজীবী মানুষ।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে ধরলা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে তীব্র স্রোতের সৃষ্টি হয়। সোমবার গভীর রাতে প্রবল স্রোতের চাপে কালভার্টটি ধসে পড়ে। একই সঙ্গে কালভার্টের দুই পাশের প্রায় ৫০ ফুট সড়কও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।
আনন্দবাজার থেকে চরগোরকমন্ডল এলাকার প্রধান সংযোগ সড়কটি ভেঙে যাওয়ায় মোটরসাইকেল, ভ্যান, অটোরিকশাসহ সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে স্থানীয়দের দীর্ঘ বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে, এতে সময় ও যাতায়াত ব্যয় দুটিই বেড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ধরলা নদীর তীরে একটি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়ে এলেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্তমানে কোমরসমান পানি পেরিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুল-কলেজে যেতে হচ্ছে। দ্রুত সড়ক পুনর্নির্মাণ, বিকল্প চলাচলের ব্যবস্থা এবং একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হাছেন আলী বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে জরুরি ভিত্তিতে বিকল্প চলাচলের ব্যবস্থা এবং স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সিরাজ দৌল্লা জানান, চলতি অর্থবছরে এ প্রকল্পের জন্য কোনো বরাদ্দ নেই। তবে নতুন বরাদ্দ পাওয়া গেলে বড় পরিসরে একটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দিলারা আক্তার বলেন, বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলীকে অবহিত করা হয়েছে। সরেজমিন পরিদর্শনের পর স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগ কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।