দীর্ঘ প্রায় ১১ বছর পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নবম জাতীয় পে স্কেল কার্যকর হয়েছে। তবে নতুন বেতন কাঠামো চালু হলেও বর্ধিত বেতন কবে থেকে ব্যাংক হিসাবে জমা হবে, তা নিয়ে এখনো রয়েছে নানা প্রশ্ন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, নতুন পে স্কেল কার্যকরের ঘোষণা দেওয়া হলেও প্রশাসনিক আদেশ, গেজেট প্রকাশ, সফটওয়্যারভিত্তিক হিসাব সমন্বয় এবং বেতন বিল প্রস্তুতের কাজ শেষ হওয়ার পরই বাড়তি বেতন পরিশোধ করা হবে। গেজেট প্রকাশের পর বকেয়াসহ নতুন হারে বেতন দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছে অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা।
এর আগে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ১ জুলাই থেকে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন। সরকারের মতে, দীর্ঘদিন একই বেতন কাঠামো বহাল থাকায় জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করা হয়েছে।
নবম পে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০টি গ্রেড বহাল রেখে বিভিন্ন পর্যায়ে মূল বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।
তবে কমিশনের সব সুপারিশ চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়ন হবে কি না, তা সরকারের অনুমোদিত গেজেট ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনার ওপর নির্ভর করবে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে মূল বেতন ও বিভিন্ন ভাতা আলাদা ধাপে কার্যকর করার পরিকল্পনা থাকলেও কারিগরি জটিলতা এড়াতে প্রথম ধাপে মূল বেতন সমন্বয়ের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতার সংশোধন পরবর্তী ধাপে কার্যকর হতে পারে।
নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের জন্য সরকার প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে। এ অর্থ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, পেনশনভোগী এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ও পেনশন সমন্বয়ে ব্যয় হতে পারে।
বর্তমানে দেশে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি চাকরিজীবী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগী রয়েছেন। তাদের বেতন ও পেনশন বাবদ সরকারের বার্ষিক ব্যয় প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।
অর্থনীতিবিদদের মতে, নতুন পে স্কেল সরকারি চাকরিজীবীদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াবে এবং জীবনযাত্রায় স্বস্তি আনবে। তবে একই সঙ্গে বাজার তদারকি ও পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী না হলে অতিরিক্ত চাহিদার কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।