বাংলাদেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য আলাদা প্রদেশ বা রাষ্ট্র গঠনের বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় এসেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট চৈতালী চক্রবর্তী। তার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে চৈতালী চক্রবর্তী দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওপর হামলা, উপাসনালয়ে ভাঙচুর এবং ধর্মীয় স্বাধীনতায় বাধার ঘটনা ঘটছে। তিনি বলেন, যদি এ ধরনের পরিস্থিতির পরিবর্তন না হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা নিয়ে বাংলাদেশের ভেতরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য আলাদা একটি প্রদেশ গঠনের দাবি উত্থাপন করা হতে পারে।
ভিডিওটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ তার বক্তব্যের সঙ্গে একমত প্রকাশ করেন, আবার অনেকে এটিকে বাংলাদেশের সংবিধান ও রাষ্ট্রব্যবস্থার সঙ্গে সাংঘর্ষিক মন্তব্য হিসেবে উল্লেখ করেন। বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে মতামত দিয়েছেন এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও তুলেছেন।
এদিকে, ভিডিওতে দেওয়া বক্তব্যের ব্যাখ্যায় চৈতালী চক্রবর্তী দাবি করেন, তার উদ্দেশ্য বিভাজন সৃষ্টি করা নয়; বরং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রশ্নটি সামনে আনা। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সব ধর্মের মানুষের দেশ এবং তিনি শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পক্ষপাতী। তবে পরিস্থিতির অবনতি হলে কঠোর ভাষায় প্রতিবাদ জানানোর অধিকার রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে হিন্দু উগ্রবাদ মাথাচাড়া দিয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধান রাষ্ট্রের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। ফলে দেশের অভ্যন্তরে আলাদা প্রদেশ বা রাষ্ট্র গঠনের মতো যে কোনো দাবি আইনগত ও সাংবিধানিক প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে। এ ধরনের বক্তব্যের বাস্তবায়নের কোনো সাংবিধানিক ভিত্তি আছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মূল্যায়নের বিষয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো অতীতেও জানিয়েছে, ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারে বা জনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে পারে এমন যেকোনো উসকানিমূলক বক্তব্য বা কর্মকাণ্ড আইন অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হয়। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিও বা বক্তব্যের সত্যতা ও প্রেক্ষাপট যাচাই করে মতামত দেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের দেশ। তাই সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা, নাগরিক অধিকার এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, আলোচিত ভিডিওটি নিয়ে বিতর্ক চললেও এ বিষয়ে যেকোনো মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ বক্তব্য, প্রেক্ষাপট এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবস্থান বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। বিষয়টি নিয়ে জনমনে আগ্রহ থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো আদালতের রায় বা সরকারি সিদ্ধান্তের মাধ্যমে উক্ত বক্তব্যের আইনগত অবস্থান নির্ধারিত হয়নি।