ভারতের অরুণাচল প্রদেশের আন্তর্জাতিক সীমান্তবর্তী আপার সুবানসিরি জেলায় চীনা সেনাবাহিনীর অনুপ্রবেশের অভিযোগ তুলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে স্থানীয় ‘নহ্’ (Na) উপজাতি সম্প্রদায়। তাদের দাবি, গত ছয় বছরে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) ধীরে ধীরে তাদের ঐতিহ্যবাহী চারণভূমি, শিকার এলাকা এবং কৃষিজমির উল্লেখযোগ্য অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গেছে। এর ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা পূর্বপুরুষদের ব্যবহৃত ভূমিতে প্রবেশ করতে পারছেন না এবং তাদের জীবিকা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হুমকির মুখে পড়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া ও আনন্দবাজার পত্রিকা-এর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি আপার সুবানসিরি জেলার ডেপুটি কমিশনারের কাছে দেওয়া এক স্মারকলিপিতে ‘নহ্ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’র সভাপতি কেরু চাদ এ অভিযোগ উত্থাপন করেন।
স্মারকলিপিতে তিনি বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় পিএলএর ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি ও টহলের কারণে স্থানীয় জনগোষ্ঠী তাদের চিরাচরিত চারণভূমি, শিকারক্ষেত্র ও কৃষিজমিতে প্রবেশাধিকার হারাচ্ছে। এতে শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই নয়, বহু প্রজন্ম ধরে চলে আসা জীবনধারা, সংস্কৃতি এবং সামাজিক ঐতিহ্যও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
কেরু চাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলো দীর্ঘদিন ধরে নহ্ জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যগত ব্যবহারের অংশ হলেও বর্তমানে সেখানে চীনা সেনাদের নিয়মিত উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। স্থানীয়রা নিরাপত্তাজনিত কারণে ওইসব এলাকায় যেতে ভয় পাচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রেই তাদের ফিরে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
স্মারকলিপিতে ভারত সরকারের কাছে দ্রুত কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তে নজরদারি জোরদার, স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের ঐতিহ্যগত ভূমির অধিকার রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
তবে এ অভিযোগের বিষয়ে ভারতীয় সেনাবাহিনী বা কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে চীনের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
উল্লেখ্য, অরুণাচল প্রদেশকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে চীন, যদিও ভারত এ দাবিকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করে। সীমান্তের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) ঘিরে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং মাঝেমধ্যেই অনুপ্রবেশ ও মুখোমুখি অবস্থানের অভিযোগ সামনে আসে।